উদয় বসু: ভিক্টোরিয়ায় সপরিবারে বেড়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় দমদম বিবেকানন্দপল্লীর সুবীর পালের। বাড়ির একমাত্র উপার্জনকারীর আকস্মিক মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা। বাবা যে আর নেই, স্বাভাবিকভাবে তা উপলব্ধি করতে পারছে না আড়াই বছরের মেয়ে সম্বি। এ সময় এই পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ালেন দমদমের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ঘটনার পর থেকেই তিনি এই পরিবারকে আগলে রেখেছেন। সম্বির যাতে পড়াশোনায় কোনও অসুবিধা না হয়, মন্ত্রী তার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। দক্ষিণ দমদমে পুরসভার সিআইসি–র সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মন্ত্রী শুধু সুবীর পালের মেয়ের পড়াশোনার দিকই দেখছেন তা নয়, ওই পরিবারকে বাঁচাতে সুবীরের স্ত্রীর জন্য একটা চাকরির বিষয়টিও চিন্তাভাবনা করছেন। তিনি সুবীরের স্ত্রী সঙ্গীতার চাকরির ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানালেন দেবাশিসবাবু। ৫ বছর আগে দমদম বিবেকানন্দপল্লীর বাসিন্দা একটা চশমার দোকানের কর্মী সুবীর পাল খ্রিস্টান তরুণী সঙ্গীতাকে বিয়ে করেন। এরই মধ্যে সংসার আলো করে আসে সম্বি। সেই সুখী সংসারে হঠাৎ ছেদ ঘটে গত শুক্রবার। সেদিনই ছিল সঙ্গীতার জন্মদিন। সঙ্গীতা ও সম্বিকে নিয়ে ভিক্টোরিয়ায় বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সুবীর নিজেই। সঙ্গীতা মানা করেননি। দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে তিনজনে বেরিয়ে পড়েন। ভিক্টোরিয়া পৌঁছোনোর পর প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হতে থাকে। ভিক্টোরিয়ার দক্ষিণ গেটের কাছে আচমকা একটি বাজ পড়ে সুবীরের প্রাণ কেড়ে নেয়। সব কিছুই হয় স্ত্রী ও সন্তানের চোখের সামনে। সঙ্গীতাকে আগলে রেখেছেন প্রতিবেশীরা।‌

জনপ্রিয়

Back To Top