বিজয়প্রকাশ দাস
বর্ধমান, ১৮ সেপ্টেম্বর

বাধা করোনা পরিস্থিতি। বর্ধমান রাজবাড়ির প্রায় ৩০০ বছরের পটেশ্বরী দুর্গাপুজোয় আসতে পারছেন না রাজকুমার ও রানি। লন্ডন থেকে দেশে ফিরলেও প্রাচীন পারিবারিক এই পুজোয় যোগ দিতে আসছেন না রাজকুমার প্রণয়চন্দ মহতাব ও তাঁর স্ত্রী নন্দিনী মহতাব। তাই এবার পুজোয় থাকছে না জাঁকজমক। যদিও রাজাদের পুরনো নিয়মনীতি মেনেই পুজোআচ্ছা হবে। সেই রাজত্ব না থাকলেও রাজকুমার ও রানির আগমনকে ঘিরে প্রতিবছর প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিত রাজবাড়ির আবাসিক ও শহরবাসীর মধ্যে।
বর্ধমান রাজবংশের আদি দুর্গামন্দির ছিল রাজবাড়ি লাগোয়া রানিস্কুলের সঙ্গে। সেখানেই পটে আঁকা ‘পটেশ্বরী’ দেবীর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রানি বিষণকুমারী। তিনি ছিলেন রাজা ত্রিলকচন্দের রানি। ত্রিলকচন্দের রাজত্বকালের সময় এখানে অহরহ যুদ্ধ লেগেই ছিল। কখনও মারাঠাদের সঙ্গে, আবার কখনও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে। এরই মধ্যে ত্রিলকচন্দের অকালমৃত্যু হয়। তাঁর পুত্র তেজচন্দের ছিল উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন। তখন সব মিলিয়ে অসহায় রানি বিপদ থেকে বাঁচার জন্য এবং রাজ্যের সুখ-শান্তির জন্য পটেশ্বরীর পুজো শুরু করেন। প্রায় সাড়ে সাত ফুট বাই সাড়ে পাঁচ ফুট কাঠের ফ্রেমে ক্যানভাসে আঁকা পুত্র-কন্যা-সহ মা দুর্গতিনাশিনীর ছবি। মা দুর্গার সোনার মতো গায়ের রং। অসুরের রং গভীর সবুজ। প্রায় তিনশো বছরের এই পুজো বৈষ্ণব মতে হয়ে আসছে। এখানে কোনও বলিদান হয় না। হয় চণ্ডীপাঠ, হোম। প্রতিদিন রাতে চলে গুজরাটি নৃত্য। আগে বসত মেলা। পোড়ানো হত আতশবাজি। উপচে পড়ত মানুষের ভিড়। সেই জৌলুস এখন আর নেই।
বর্ধমান রাজের প্রধান পুরোহিত উত্তম মিশ্র জানান, ১৯৫০ সালে রাজত্ব চলে যাওয়ার অভিমানে শেষ রাজা উদয় চাঁদ বর্ধমান ছাড়েন। তখন বেশ কয়েক বছর পটেশ্বরী পুজো বন্ধ ছিল। তারপর বারো বছর পরে রাজকুমার প্রণয় চাঁদ নিজে মানত করেন এই পুজোর। তখন থেকে রাজাদের লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে ফের পুজো শুরু হয়। এ বছরও পুজোয় সস্ত্রীক রাজকুমার আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনা আবহে তাঁরা আসতে পারছেন না। লন্ডন থেকে তাঁরা দেশে ফিরে কলকাতার বাড়িতে আছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই এবার পুজো হবে। তবে পুজোয় পুরনো নিয়মনীতি মেনে হলেও এবার আর সেই জাঁকজমক থাকছে না। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে অন্যান্য বছর দুর্গাপুজো শুরু হয়। এ বছর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর মলমাস পড়ায় নবরাত্রির দুর্গাপুজো শুরু হয়েছে ১৭ অক্টোবর থেকে।

‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top