প্রদীপ দে, বহরমপুর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির স্বপ্নের প্রকল্প কন্যাশ্রী। তার সঙ্গে সবুজসাথী। এর জেরে স্কুলে মেয়েদের ভিড় উপচে পড়ছে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বা মাদ্রাসার পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদে ছাত্রীদের হার ছাত্রদের তুলনায় অনেক বেশি। গত ৫ বছর ধরে দেখা গেছে, প্রতি বছরই ছাত্রীদের সংখ্যা বাড়ছে। কয়েক বছর আগেও প্রত্যন্ত গ্রাম বা পদ্মাপারের চরের মেয়েরা স্কুলে আসত না। পায়ে হেঁটে ৮–১০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে স্কুলে যাওয়া ছিল সত্যি দুঃসাধ্য। কিন্তু এখন সবুজসাথী সাইকেলে চেপে মেয়েরা দলবেঁধে স্কুলে যাচ্ছে। 
পরিসংখ্যানে নজর রাখলেই বোঝা যাবে কী হারে বাড়ছে ছাত্রী সংখ্যা। এবছর মুর্শিদাবাদে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ১৩৫, এর মধ্যে ছাত্রী ৪৮ হাজার ১৩৫, ছাত্রের সংখ্যা ৩০ হাজার। অর্থাৎ ৩৮.৪০ শতাংশ ছাত্র, আর ছাত্রী ৬১.৬০ শতাংশ। ২০১৯–এ ছাত্রী ছিল ৬১.২৩ শতাংশ, ছাত্র ৩৮.৭৬ শতাংশ। ২০১৬ সালে ছাত্রীর হার ছিল ৫৮.৪২ শতাংশ, ছাত্র ৪১.৫৮ শতাংশ। ২১০৭ সালে ছাত্রী ৫৯.১৪ শতাংশ, ছাত্র ছিল ৪০.৮৬ শতাংশ, ২০১৮ সালে ছাত্রী ৬১.৬২ শতাংশ, ছাত্র ৩৮.৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি বছরই ছাত্রীদের সংখ্যা বেড়েছে। মাদ্রাসা পরীক্ষায় এবছর মুর্শিদাবাদে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৬২৯ জন। তার মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ১১ হাজার ৯৭৬ জন (৭১.৯৬ শতাংশ), ছাত্র ৪ হাজার ৬৬২ জন (২৮.৪ শতাংশ)। ২০১৯ সালে মাদ্রাসা পরীক্ষায় ছাত্রীর হার ছিল ৬৯ শতাংশ, আর ছাত্রদের হার ছিল ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। মেয়েরা নিজের পায়ে দঁাড়াচ্ছে। 
মুর্শিদাবাদ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা। এক সময় মেয়ে পাচার, নাবালিকা বিয়েতে রাজ্যে এগিয়ে ছিল। এখন ছবিটা একেবারেই উল্টো। তার প্রধান কারণ হল মুখ্যমন্ত্রীর নানা প্রকল্প। যে মেয়ের বাবা–মা মেয়ের ১৪–১৫ বছর হলেই বিয়ে দিত, সেখানে এখন মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন বাবা মায়েরা। তাদের কথায়, ‘‌মেয়ে কন্যাশ্রীর টাকা পাচ্ছে। সবুজসাথী সাইকেল পেয়েছে। নিরাপত্তা আছে। আর কী চাই?‌ সবই হচ্ছে দিদির জন্য।’‌ প্রায় ৪ মাস আগে ২০ নভেম্বর সাগরদিঘিতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেই সভায় দেখা গিয়েছিল, মেয়েদের ভিড় কীভাবে উপচে পড়েছিল। সবার মুখে একটাই কথা, ‘‌দিদির জন্য এগিয়ে যাচ্ছি। আমরাও দিদির পাশে।’‌ মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক জগদীশ প্রসাদ মিনাও বলেছেন, ‘‌কন্যাশ্রী–সহ নানা সরকারি প্রকল্পে উপকৃত হচ্ছে মেয়েরা। তাই স্কুলে মেয়েদের উপস্থিতির হার বাড়ছে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top