আজকালের প্রতিবেদন: অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে অনিয়ম–বেনিয়ম আটকাতে এবার জিপিআরএস প্রযুক্তি কাজে লাগাবে কলকাতা পুরসভা। 
মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভায় জরুরি বৈঠক বসে। এদিনের আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। ছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ডাঃ অভিজিৎ চৌধুরি, পুর কমিশনার বিনোদ কুমার, পুর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য অতীন ঘোষ, কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল কমিশনার জাভেদ‌ শামিম। স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘‌বর্তমান অবস্থার মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সবরকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। কোভিড আক্রান্তের খবর পেয়ে বিচলিত না হয়ে কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানান।’‌ 
পুরসভায় মঙ্গলবার কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের মূল বিষয় ছিল শহরে অ্যাম্বুল্যান্স সমস্যা। বৈঠক শেষে আলাপন জানান, ইদানীং অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যে কোনও পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হবে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর এবং কলকাতা পুরসভা যৌথভাবে এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী। অ্যাম্বুল্যান্সের ওপর নজর রাখতে জিপিআরএস প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। বাড়ানো হচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্সের সংখ্যাও। পুরসভা নিজের অ্যাম্বুল্যান্স সংখ্যা আরও ৮টি বাড়াচ্ছে। এছাড়া রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ১১৫টি অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত করছে শুধুমাত্র কলকাতা শহরের জন্য। 
অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য স্বাস্থ্য দপ্তর, পুরসভা কন্ট্রোলরুম নম্বরে ফোন করে জানাতে হবে।  বেসরকারি নন–কোভিড নার্সিংহোম, হাসপাতাল থেকে কোভিড হাসপাতালে রোগী ভর্তি নিয়ে হয়রানির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব জানান, এ বিষয়ে সবার কয়েকটি জিনিস জানা এবং সতর্ক হওয়া দরকার। কেউ বেসরকারি নার্সিংহোম কিংবা হাসপাতালে অন্য কোনও রোগের চিকিৎসার জন্য ভর্তি ছিলেন। কোভিড আক্রান্ত ছিলেন না। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন কোভিড আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ওই রোগীকে নিয়ে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। পরিবার এবং নার্সিংহোমও ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে আগে নার্সিংহোম কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে কোভিড হাসপাতালে ভর্তির জন্য বেড বুক করতে হবে। তারপর রোগী স্থানান্তরিত করা যাবে। বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলি রোগীকে কোভিড হাসপাতালে রেফার করে দিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করে দিচ্ছে। তাড়া লাগাচ্ছে। সিট বুক না করে রোগী নিয়ে বেরিয়ে পরিবারকে হয়রান হতে হচ্ছে। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে কোভিড হাসপাতালে বেড বুক না করা পর্যন্ত রোগীকে স্থানান্তরিত করা যাবে না। এ নিয়ে একটি নির্দেশিকাও পাঠানো হবে বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলিকে। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী কোভিড আক্রান্ত খবরে উদ্বিগ্ন হলে চলবে না। স্বাস্থ্য দপ্তর কিংবা পুরসভার কন্ট্রোলরুমে ফোন করে জানাতে হবে। হুড়োহুড়ি করে চড়া দামে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে ছুটোছুটির করার দরকার নেই। পুরসভা এবং স্বাস্থ্য ভবন ২৪ ঘণ্টা খোলা, ফোন নম্বরও খোলা রয়েছে। অহেতুক উদ্বিগ্ন হলে চলবে না। আর পুরো কাজটাই চলবে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top