তুফান মণ্ডল
মিড–ডে মিলের জন্য স্কুলের ছাদে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন সবজির। আর নীচে বদ্ধঘরের মধ্যে মাশরুম। এর ফলে মিড–ডে মিলের জন্য আর বাজারে ছুটতে হচ্ছে না। নিজেদের করা সবজি চাষে অনেকটা প্রয়োজন মিটছে। এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছে পুরশুড়ার শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পারুল প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই মরশুমে প্রাক–প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২২০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন। একেবারে গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত স্কুলটি। ছাত্রছাত্রীদের বেশিরভাগই চাষি ও দিনমজুর পরিবারের। কিন্তু পঠন–পাঠন উন্নত মানের। 
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিপ্লবকুমার সামন্ত মিড–ডে মিলে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। গত বছর অক্টোবর মাস থেকে স্কুলের ছাদে শুরু করেছেন সবজি চাষ। বিভিন্ন ধরনের শাক, মুলো, বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, কুমড়ো, আদা, রসুন সমস্ত কিছু চাষ হচ্ছে স্কুলের ছাদে দেড় হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে। ডিসেম্বর মাস থেকে অ্যাজবেস্টসের ছাউনি দেওয়া স্কুলের পুরনো ভবনের একটি ঘরে শুরু হয়েছে মাশরুম চাষ। এর জন্য প্রধান শিক্ষক পার্শ্ববর্তী চিলাডাঙ্গি গ্রামের বিশেষজ্ঞ হারাধন রায়ের পরামর্শ নিচ্ছেন। কীভাবে চাষ করতে হয়, এর জন্য কী কী করণীয়, সমস্ত কিছু দেখিয়ে দিচ্ছেন হারাধনবাবু। তার ফলও মিলছে হাতেনাতে। প্রাথমিকভাবে ৩৫টি পলিব্যাগে এই মাশরুম চাষ শুরু হয়েছে। সেগুলি বদ্ধঘরে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ফলন শুরু হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, একবার চাষ করেই তিন মাস ধরে ফলন পাওয়া যায়। এই চাষের ফলে মিড–ডে মিলে ছাত্রছাত্রীরা নতুন স্বাদ পাচ্ছে। স্কুলের পড়ুয়া তন্ময় ধঁক, মিলি মাজি, অনীশ মান্না, সম্প্রীতি গড়াই জানিয়েছে, চাষের কাজে আমরাও হাত লাগাই। পড়াশোনার ফাঁকে গাছের পরিচর্যা করতে খুব ভাল লাগে। নিজেদের তৈরি সবজি দিয়ে খেতে খুব ভাল লাগছে। প্রধান শিক্ষক বিপ্লবকুমার সামন্ত বলেন, ‘‌এর ফলে মিড–ডে মিলের খরচ আমরা অনেকটাই কমিয়েছি। কিন্তু তার থেকেও বড় কথা ছোট ছোট বাচ্চাদের  টাটকা সবজি দিতে পারছি। সবকিছু জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে। খুব ভাল লাগছে।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top