দীপঙ্কর নন্দী: রামমন্দিরের শিলান্যাসের দিন লকডাউন প্রত্যাহার করতে বলে বিজেপি–‌র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের সমালোচনার মুখে পড়লেন।
সোমবার দিলীপবাবু প্রাতর্ভ্রমণ করতে গিয়ে বলেন, ‘‌৫ আগস্ট লকডাউন প্রত্যাহার করতে হবে। ওই দিন রাম মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠান। সেই উপলক্ষে বাংলায় ঘরে ঘরে বিভিন্ন মন্দিরে প্রার্থনা জানানো হবে, প্রদীপ জ্বলবে।’‌
 তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌দিলীপবাবু লকডাউন ভেঙে মর্নিং ওয়াক করছেন। তাঁর মুখে এসব কথা মানায় না।’‌
কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‌ভারতের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ করোনায় আক্রান্ত। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বলতে চাই, আমার কাছে দিলীপবাবুদের কোনও গুরুত্ব নেই। দায়িত্বজ্ঞানহীন। আমার তো মনে হয় এখন যা পরিস্থিতি তাতে গোটা ভারত জুড়ে লকডাউন করা উচিত। আমরা কোনও কথা বলি না। পুজোআচ্চা নিয়েও আমরা কোনও মন্তব্য করি না। এটুকু বলতে পারি প্রকাশ্যে অনুষ্ঠান করার সময় এখন নয়। মানুষের নিরাপত্তা দেখাটাই এখন জরুরি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলায় সেই কাজটাই করছেন। করোনার জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছে। আক্রান্ত হচ্ছে, সুস্থও হচ্ছে। খরচ কমছে না। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি। দিলীপবাবুরা এসব কি জানেন না?‌ আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণের ব্যবস্থা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। ত্রাণ নিয়ে বিজেপি শুধু দলবাজি নয়, চারদিকে এমন বাতাবরণ তৈরি করছে তাতে মনে হচ্ছে, আমরা কোথাও ত্রাণ পাঠাইনি। বিজেপি–‌র এই রাজনীতির সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। মুখ্যমন্ত্রী সঠিক সময়ে ফের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাস্তায় নেমে  কোনও কিছু না করে দিলীপবাবুরা চিৎকার করা বন্ধ করুন। সাধারণ মানুষ আপনাদের দ্বারা প্রভাবিত হবে না। আগামী নির্বাচনে যোগ্য জবাব পাবেন।’‌
বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় রাসবিহারীতে রাখিবন্ধন উৎসবে গিয়ে বলেন, ‘‌আমি একজন পূজারি ব্রাহ্মণ। পুজোটা অন্তরের ব্যাপার। লোককে দেখানোর ব্যাপার নয়। এতে পুজোর সার্থকতা থাকে না। আন্তরিকতা ও ভক্তির অভাব দেখা দেয়। মানুষের স্বার্থে এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে লকডাউন করা হয়েছে। দিলীপবাবুরা ঘরে বসে পুজো করুন। আমার ঘরেও রামের ছবি আছে। পুজো হয়, তবে এই সময় বাইরে বেরিয়ে বা লোকজন জড়ো করে নয়। 

দিলীপবাবুদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। রামমন্দিরের শিলান্যাসের জন্য ৫ আগস্ট লকডাউন প্রত্যাহার হবে না। রাজ্য সরকার লকডাউনের দিন আগেই ঘোষণা করেছে। কখনও কখনও বৃহত্তর স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। একঘেয়েমি মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। দিলীপবাবুর রাজনৈতিক গভীরতা নেই। তাই মাঝে মাঝেই হাস্যকর কাণ্ড করে বসেন।’‌
‌‌‌হাওড়া থেকে আজকাল প্রতিনিধি প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়:‌ ৫ আগস্ট রাজ্যে লকডাউন প্রত্যাহারের বিজেপি–র দাবির কড়া সমালোচনা করলেন রাজ্য বামফ্রণ্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সোমবার হাওড়ার এক অনুষ্ঠানে এসে বিমান বসু বলেন, ‘‌ওইদিন কমরেড মুজফ্‌ফর আহমেদের জন্মদিন। ১৯৬৩ সাল থেকে আমরা ওইদিনটি পালন করে আসছি। এবার সেটা করতে পারব না। কিন্তু এই নিয়ে আমরা কোনও প্রতিবাদ জানাইনি।’‌ তাই উত্তরপ্রদেশে রামমন্দিরের শিলান্যাসে এই রাজ্যে কেন লকডাউন করা যাবে না বলে বিমান বসু প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকী, ওই শিলান্যাস অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগ দিতে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, ‘রাষ্ট্রের কি কোনও ধর্ম থাকে? রাষ্ট্র সব ধর্মের সমান অধিকার দেয়। তাহলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি কী করে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন?’‌

জনপ্রিয়

Back To Top