আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌অরাজনৈতিক’‌‌ ভাষণের নতুন ‘‌জঁর’‌ তৈরি করছেন শুভেন্দু। ‘‌গ্রামের ছেলে রাস্তায় বেরিয়েছে, তাতে ফ্ল্যাটবাড়িতে থাকা কারও কারও অসুবিধে হচ্ছে’‌, গড়বেতায় এদিন নিশানায় কে বা কারা ছিলেন, তা স্পষ্ট করে বললেন না তিনি। বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিবস কর্মসূচিতে গিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দিতে গিয়ে বলছেন, ‘‌বাংলার ছেলে। ভারতের সন্তান। এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিচয়।’ তবে‌ এখনও খাতায়–কলমে তৃণমূলেরই বিধায়ক শুভেন্দু। ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, আগামী ৬ ডিসেম্বর  নিজের রাজনৈতিক অবস্থান‌ স্পষ্ট করতে পারেন তিনি। সর্বসমক্ষে ঘোষণা করতে পারেন তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা। আপাতত ওই দিনটির দিকে তাকিয়েই গোটা রাজ্যবাসী। 
এদিন আগে তমলুকে যান শুভেন্দু। ক্ষুদিরাম মূর্তিতে মালা দান করে হাসপাতাল মোড় থেকে হ্যামিলটন হাই স্কুল পর্যন্ত পদযাত্রায় অংশ নেন। স্কুল চত্বরের কাছে ক্ষুদিরামের মূ্র্তিতে মালা দেন। বলেন, ‘‌সংবিধান বলে, সরকার বাই দ্য পিপল ফর দ্য পিপল। আমি মানুষের জন্য কাজ করছি। নন্দীগ্রাম, জঙ্গলমহল, নেতাইয়ের মানুষের পাশে সব সময় থেকেছি।' তমলুকের কর্মসূচির আয়োজক তাম্রলিপ্ত জনকল্যাণ সমিতি। যার সভাপতি শুভেন্দু নিজেই। সেখান থেকে তিনি সোজা চলে যান পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় কর্মসূচিতে। চন্দ্রকোনা থেকে বাইক মিছিল করে অনুগামীরাই তাঁকে গড়বেতায় নিয়ে আসেন। গড়বেতার বিবেক মোড়ে, স্বামী বিবেকানন্দর মূর্তিতে মালা দেন শুভেন্দু। এরপর গড়বেতা সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডের কাছে ক্ষুদিরামের মূর্তি উন্মোচন করেন। সেখান থেকে গড়বেতা গার্লস হাইস্কুলে যান। গড়বেতা ক্ষুদিরাম বসু স্মৃতিরক্ষা কমিটির উদ্যোগে সেখানে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ‘‌অরাজনৈতিক মঞ্চ’‌। কিন্তু, জেলা তৃণমূলের অনেক পরিচিত মুখকেই দেখা গেল শুভেন্দুর পাশে। সেখানে তিনি বলেন, ‘‌২০১১ সালের আগে আমিই সবচেয়ে বেশি গড়বেতায় এসেছি। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম বলছে, আমি নাকি কমফোর্ট জোনে রাজনীতি করছি। গ্রামের ছেলেটা রাস্তায় বেরিয়েছে বলে ফ্ল্যাটে থাকা লোকেদের আজ অসুবিধা হচ্ছে। পান্তাভাত, মুড়ি খাওয়া গ্রামের ছেলেটা আদর্শের জন্য লড়ছে। আপনাদের সকলের আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি।’‌ 
শুভেন্দুকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনার মাঝে খাস দক্ষিণ কলকাতার ছ’‌টি জায়গায় ফের দাদার অনুগামীদের পোস্টার। যাদবপুরের এইটবি, গোলপার্ক, গড়িয়াহাট মোড়, গড়িয়াহাটে বাসন্তী দেবী কলেজের সামনে, রাসবিহারী মোড় ও সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের পোস্টারে লেখা, ‘‌মানুষের কাজ করতে কোনও পদ লাগে না। আমরা দাদার অনুগামী।’ বাঁকুড়ার তালড্যাংরা বাজারেও একই পোস্টার দেখা গেছে।‌ এই পোস্টার কারা সাঁটাচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। কুড়া বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপত্তারণ সেনের দাবি, তৃণমূল দলটা দুর্নীতিতে ভরে গেছে। তাই এই দলে কেউ থাকতে চাইছেন না। তৃণমূলের একাংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে দাদার অনুগামী সেজে পোস্টার দিচ্ছে। বিজেপিতে আসার চেষ্টা করছে। তবে তাঁর বক্তব্য উড়িয়ে বাঁকুড়ার তৃণমূল কংগ্রেস তালড্যাংরা ব্লক সভাপতি মনসারাম লায়েকের দাবি, এলাকার মানুষ পোস্টার দেয়নি। রাতের অন্ধকারে বাইরে থেকে এসে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কেউ নেই। সবাই একসঙ্গেই কাজ করে। দাদার অনুগামী বলে কিছু নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সব।

জনপ্রিয়

Back To Top