দীপঙ্কর নন্দী: রাজ্যে অনেক আগেই কৃষকবন্ধু প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রত্যেক কৃষকের হাতে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এই রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি চালু করতে হলে রাজ্য সরকারকে সেই টাকা খরচ করার ক্ষমতা দিতে হবে। কেন্দ্র সরাসরি কৃষকদের টাকা দিতে পারবে না।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরকে চিঠি দিয়ে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‌আমাদের শুনতে হচ্ছে, আমরা নাকি প্রধানমন্ত্রীর কিসান সম্মান নিধি বাংলায় চালু করতে দিচ্ছি না। আপনারা নিশ্চয় প্রশংসা করবেন, আমরা অনেক আগেই কৃষকবন্ধু প্রকল্প চালু করেছি। আমরা কৃষক ও ভাগচাষিদের আর্থিক সাহায্য দিচ্ছি। প্রত্যেক কৃষকের হাতে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সের কৃষকদের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে তঁাদের পরিবারের হাতে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। শস্যবিমা চালু করা হয়েছে। আমরা এই বিমা চালু করার সময় কৃষকদের থেকে কোনও টাকা নিচ্ছি না। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র অপপ্রচার করছে। কৃষকদের জন্য আরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রতি বছর আমাদের প্রচুর টাকা খরচ হচ্ছে।’‌
এ ছাড়া ‘‌আয়ুষ্মান ভারত’‌–এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড.‌ হর্ষ বর্ধনকে ৯ সেপ্টেম্বর এক চিঠি লিখে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌আয়ুষ্মান প্রকল্পের আগেই বাংলায় আমরা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছি। এখানে বিনা পয়সায় ১০০ শতাংশ মানুষকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়। নিখরচায় ওষুধ দেওয়া হয়। ৭.‌৫ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে চলছে বিনা পয়সায় চিকিৎসা। এর মধ্যে আয়ুষ্মান ভারত এখানে প্রয়োজন আছে বলে আমাদের মনে হয় না।’
এদিকে এদিন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বলেছেন, ‘‌কেন্দ্রের কোনও প্রকল্পই রাজ্য সরকার চালু করতে দিচ্ছে না।’‌
তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‌‌বিজেপি সরকার সব রকম ভুল তথ্য প্রচারের কাজে ব্যস্ত। সে–কারণেই সম্ভবত তারা কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির লেখা চিঠির কথা ভুলে গেছে। বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিতে চায় না। মুখ্যমন্ত্রীর আর্জিকে উপেক্ষা করছে। এ কাজেই তারা এখন বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছে। ওরা কি সহযোগিতা শব্দটি আদৌ শুনেছে?‌’‌
কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘‌রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখে সমস্ত কাজ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।’‌
কেন্দ্রের দুই মন্ত্রীকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যে–‌চিঠিদুটি দিয়েছেন, তা মঙ্গলবার অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে চাল ডাল আলু পেঁয়াজ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নয়, কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, ‘‌ভয়ঙ্কর খারাপ পরিস্থিতি হবে। ফড়েদের রাজ হবে। সামন্ততন্ত্র ফিরে আসবে। আমার দল দিল্লিতে প্রতিবাদ করছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের সাহায্য করতেই হবে। না–‌হলে যে–‌বিপর্যয় নামবে, তা ঠেকানোর ক্ষমতা এই কেন্দ্রীয় সরকারের নেই।’‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top