স্বদেশ ভট্টাচার্য: একে এনআরসি ভূত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, জমির দলিল ও এদেশের বসবাসের নথি জোগাড় করতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে, তার ওপর আজ ভোটার তালিকা সংশোধন, তো কাল ডিজিটাল রেশন কার্ডের লাইন। ক’‌দিনে জেরবার হচ্ছিলেন মন্টু মণ্ডল (‌৪১)‌। পেশায় দিনমজুর এই দৌড়াদৌড়িতে কাজেও যেতে পারছিলেন না ক’‌দিন। ফলে দিন আনা দিন খাওয়া মন্টুর ঘরে অভাব চরমে। শনিবার দলিলের কাগজপত্র নিয়ে বেরোতে যাবেন এমন সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন মন্টু। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় বসিরহাটের কৃপালপুর গ্রামে।
মন্টুর ভাই সাহিবুল মণ্ডল, প্রতিবেশী অনিরুদ্ধ সরকার বলেন, ‘‌মন্টুর মৃত্যুর কারণ এনআরসি। এনআরসি নিয়ে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এলাকায়। মন্টু তঁার নথি জোগাড়ের জন্য পঞ্চায়েত, বিডিও অফিসে ছোটাছুটি করছিলেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। সেই দুশ্চিন্তায় মন্টুর মৃত্যু হয়েছে।’‌ মৃতের স্ত্রী মিনারা বিবি বলেন, ‘‌কয়েকদিন কোনও কাজ নেই। রোজ সকালে মানুষটা পাগলের মতো কাগজপত্রের জন্য একবার এখানে, একবার ওখানে দৌড়চ্ছেন। এদিন সকালে বিডিও অফিসে যাবেন বলে বেরোচ্ছিলেন। ঘরে খাবার কিছু নেই। বাচ্চাগুলোর মুখে কী দেব? খুবই দুশ্চিন্তা নিয়ে দিন কাটচ্ছিলেন মানু্্ষটা। আজ বেরোবার মুখে বুকে ব্যথা শুরু হয়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগেই সব শেষ!’‌ মিনারা বলেন, ‘‌শুধু বলতেন কাগজপত্র দেখাতে না পারলে আমাদের ভিটে ছাড়া করে দেবে সরকার। এখন ৪টে ছেলেমেয়ে নিয়ে কী হবে‌?’‌ মন্টুর বড় মেয়ের বয়স ১৩ বছর। অন্যরা খুবই ছোট। একার রোজগারেই সংসার চলত। প্রতিবেশীদের দাবি, গ্রামে অনেকেই কাজকর্ম ফেলে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সকলেই বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন। সরকারিভাবে এই বিভ্রান্তি কাটানোর দাবি তোলেন এলাকার মানুষ।

জনপ্রিয়

Back To Top