নীলরতন কুণ্ডু, হুগলি: বেড়াতে গিয়ে নৈনিতালের রাস্তায় পায়ে চাকা লাগিয়ে কিছু যুবককে ছুটে যেতে দেখে কিছুক্ষণের জন্য অবাক হয়ে যায় চুঁচুড়ার শুভায়ন নন্দী। প্রথম দেখাতেই স্কেটিং ভালবেসে ফেলে সে। বাবা–মাকে রাজি করিয়ে ওই যুবকদের কাছে তখনই হয় হাতেখড়ি। মা অন্তরাদেবী বলছিলেন, ‘‌দেখলাম স্কেটিংয়ে বেশ ঝুঁকি। ওকে দেখে সেদিন বুক ধড়ফড় করছিল। পরে নৈনিতালের ওই যুবকরাই জানায়, অল্প সময়ে শুভায়ন স্কেটিং রপ্ত করে ফেলেছে। ওর মধ্যে প্রতিভা আছে।‌ সেই শুরু।’
বাড়ি ফিরে চুঁচুড়ার বকুলতলায় স্কেটিং শেখানোর একটি ব্যানার দেখে যোগাযোগ করে শুরু হয় প্রশিক্ষণ। টানা আড়াই বছর চর্চার পর ডিসেম্বরে কলকাতার সাই–তে রাজ্যস্তরের রোলার স্কেটিং প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জপদক পায় শুভায়ন। তার দু’‌মাস আগে কোন্নগরে জেলাস্তরের প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পায়। স্কেটিংয়ের পাশাপাশি গানবাজনা ও সাঁতারচর্চাও করে চন্দননগর কানাইলাল বিদ্যামন্দিরের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র শুভায়ন। স্কেটিং করেই ভবিষ্যতে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চায়। প্রশিক্ষক কেওটার অনিন্দ্য ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‌খেলাটি নিয়ে বাঙালি খুব একটা চর্চা করে না। সেভাবে সুযোগ–সুবিধাও মেলে না। তবে জাতীয় স্তরে স্কেটিংয়ের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।’‌ চুঁচুড়ার ধান্য গবেষণা কেন্দ্রের ভেতরে লম্বা রাস্তায় স্কেটিংয়ের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ায় সেখানে প্রতি শনি ও রবিবার আগ্রহী ছেলেমেয়েদের স্কেটিং শেখান অনিন্দ্য।

জনপ্রিয়

Back To Top