গৌতম মণ্ডল
এ মেলায় সবকিছু পুরনো। সেই পুরনো জিনিসের টানে দূর–দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ চলে আসেন। কেউ শুধু দেখতে আসেন। কেউ বা আবার কিনতে আসেন। মন্দিরবাজারের বিষ্ণুপুরের শ্মশানের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছিল আদিগঙ্গা। আজ মজে গিয়ে পুকুরে পরিণত হয়েছে। পুরাণ থেকে জানা যায়, গঙ্গাসাগর যাওয়ার পথে ১ মাঘ শ্রীচৈতন্য এই আদিগঙ্গায় স্নান করেছিলেন। তারপর থেকে পুণ্যার্জনের আশায় বিশেষ দিনটিতে এলাকার বাসিন্দারা এই পুকুরে স্নান শুরু করেন। সেই থেকে চলে আসছে আদিগঙ্গার মাঘীস্নান। এখন মন্দিরবাজার পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে মেলার আয়োজন করা হয়৷ মেলা চলে প্রায় মাস খানেক ধরে।
বই থেকে মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরা, টিভি, ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিন ও আলমারি–সহ বাইনোকুলার থেকে জামাকাপড় সবই আছে। এমনকী ফার্নিচার থেকে ইলেকট্রনিকের সরঞ্জামও আছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারে মেলায় প্রায় এক হাজারের বেশি স্টলে পশরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। আর দামও বর্তমান বাজারের থেকে অর্ধেকের কম। তবে কোনও গ্যারান্টি নেই। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের জিনিস সহজে যাতে হাতের কাছে পান, সেজন্য এবার আয়োজকদের পক্ষ থেকে ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার ও পোশাকের স্টলগুলোর জন্য আলাদা সারিতে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
মন্দিরবাজার ছাড়াও কুলপি, ঢোলাহাট, রায়দিঘি, মথুরাপুর, জয়নগর, কুলতলি ও মগরাহাট এলাকার বাসিন্দারা দলে দলে এসে ভাল করে দেখে দরদাম করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন সামগ্রী। মেলাতে প্রবীণ ক্রেতাদের লক্ষ্য কালার টিভি, ফ্রিজ, আলমারি–সহ বিভিন্ন ফার্নিচারের দিকে। আবার তুলনায় কম বয়সিদের লক্ষ্য হোম থিয়েটার, মোবাইল, আইপ্যাড, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের দিকে। আর অধিকাংশ মহিলা ভিড় জমাচ্ছেন জামাকাপড়ের স্টলগুলোতে। মেলার দক্ষিণে ইলেকট্রনিক্সের পশরা সাজিয়ে বসেছেন বছর পঁয়ষট্টির প্রৌঢ় আজমল মিস্ত্রি। গত তিরিশ বছর ধরে এই মেলায় দোকান দিচ্ছেন তিনি। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দম ফেলার ফুরসত নেই দোকানের কর্মচারীদের৷ তঁার দোকানে মিলছে পুরনো মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরা, টিভি, ফ্রিজ, সিলিং ও টেবিল ফ্যান, ওয়াশিং মেশিন ও ইনভার্টার–সহ নানাবিধ সামগ্রী৷ ক্রেতা সুদীপ হালদার বলেন,‘দীর্ঘদিন ধরে হোম থিয়েটার কেনার ইচ্ছে ছিল আমার৷ নতুনের দাম প্রায় পাঁচ হাজার টাকা৷ এই মেলায় এসে হোম থিয়েটার কিনলাম মাত্র দু’হাজার টাকায়।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top