চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়: এনআরসি আতঙ্ক খাদ্যসাথী প্রকল্পের রেশন কার্ড সংশোধনের লাইনে। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে কাটোয়া মহকুমা জুড়েও ব্লকে ব্লকে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে রেশন কার্ড সংশোধনী শিবির। চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই শিবিরের মূল বিষয়ই হল, যঁাদের রেশন কার্ডে ভুল আছে বা সংশোধনের দরকার বা যঁারা খাদ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আসেননি, সেগুলি ঠিক করার জন্যই এই শিবির। কিন্তু সেই শিবিরগুলিতেই শুরু হয়ে গিয়েছে এনআরসি আতঙ্ক। ফলে ভোররাত থেকে শিবিরগুলিতে সাঙ্ঘাতিক ভিড় হচ্ছে। ভিড় সামাল দিতে পুলিশ পর্যন্ত নামানো হয়েছে। এনআরসি–র গুজবে যঁাদের আসার দরকার নেই, তঁারাও ভিড় জমাচ্ছেন। কাটোয়ার মহকুমা শাসক সৌমেন পাল জানান, ‘বারবার বলছি অকারণ আতঙ্কিত হবেন না। আতঙ্ক ছড়াবেন না।’ কাটোয়া মহকুমা খাদ্য নিয়ামক দেবলীনা ঘোষ শিবিরগুলি পরিদর্শন করছেন।
এই শিবিরগুলি নিছকই রেশন কার্ড সংশোধনী ও আওতাভুক্তিকরণ শিবির এবং এর সঙ্গে এনআরসি–র কোনও সম্পর্ক নেই বলে লাইনে ভিড় করা আতঙ্কিত লোকজনকে বোঝাচ্ছেন। আতঙ্কের কারণ সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, শিবিরগুলি থেকে রেশন কার্ড সংশোধনের জন্য আবেদনপত্র বিলি করা হচ্ছে। সেইজন্যই হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। তঁাদের অনেকেরই বক্তব্য, রেশন কার্ড সংশোধন না করলে এনআরসি–র কোপে পড়ে দেশ ছাড়তে হবে। এই ভিড়ে সাধারণ মানুষই শুধু নয়, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী–সহ সমাজের উঁচুতলার লোকজনও এই আবেদনপত্র তুলতে লাইন দিচ্ছেন। ফলে অহেতুক ভিড় বাড়ছে। এর ফলে আবেদনপত্র দেওয়ার দায়িত্বে থাকা খাদ্য দপ্তরের কর্মীরাও ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। দপ্তর সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কাটোয়া ১ নং ব্লকে ৯১৪ জন, ২ নং ব্লকে ৬৫০ জন, কেতুগ্রাম ১ নং ব্লকের ৩৭০০ জন ও মঙ্গলকোট ব্লকের ৩৩০০ জন এই আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে গুজব কতটা ছড়িয়েছে, তার প্রমাণ মিলল মঙ্গলকোটের শিবিরে। আলি শেখ, মতলেব শেখরা বলছিলেন, ‘ভোররাত থেকে লাইনে দঁাড়িয়েছি। রেশন কার্ডে একটু ভুল আছে। সংশোধন না করলে যদি দেশ ছাড়তে হয়, তাই কষ্ট করেও দঁাড়িয়ে আছি।’ তবে গুজব রুখতে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আতঙ্ক কাটাতে মাইক প্রচার করা হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top