রিনা ভট্টাচার্য: করোনা লড়াইয়ে এবার রাজ্যে তিনটি টাস্কফোর্স।
বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই খবর জানিয়ে বলেন, ‘‌সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য এই তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করবে। এই পরিস্থিতিতে কী কী বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং কী কী ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে তা পর্যালোচনা করার জন্য মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স কাজ করবে। অর্থনীতিতে ধাক্কা কীভাবে সামাল দেওয়া যায় তা ঠিক করার জন্য অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদীর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে দ্বিতীয় টাস্কফোর্স। তৃতীয়টি এনফোর্সমেন্ট টাস্কফোর্স। তৈরি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে।’‌
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‌মাস্ক না পেলে বাড়িতে কাপড় দিয়ে মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করতে হবে।’‌ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, বাজারে দূরত্ব বজায় রাখতে ইট দিয়ে সীমানা নির্দিষ্ট করতে হবে। ছাড় দেওয়া হয়েছে মানে এই নয় যে সবাই ভিড় করবেন। দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসার জন্য প্র‌য়োজনীয় ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কোনও অভাব নেই। গুজরাটের অনেক সংস্থাকে আমেরিকায় ওষুধ পাঠানোর বরাত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ রাজ্যেও ওষুধ তৈরি হয়। এখানে কোনও অসুবিধে হবে না।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌মঙ্গলবারের পর আক্রান্তের সংখ্যা ২ জন বেড়েছে। ৬৯ থেকে ৭১ হয়েছে। কিন্তু আক্রান্তদের ৬১ জনই ১১টি পরিবার থেকে এসেছেন। সংক্রমণ এখনও পর্যন্ত পারিবারিক সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এটা কমাতে গেলে নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।’‌
মুখ্যমন্ত্রী এদিন ভাল খবরও শুনিয়েছেন।  নীলরতন সরকার হাসপাতালে ৩০ জন চিকিৎসক, ৫ জন নার্স এবং ৪ জন টেকনিশিয়ানের প্রত্যেকের নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। প্রসঙ্গত, করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসায় এঁদের প্রত্যেককে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌চিন্তায় ছিলাম। এতজন চিকিৎসক, নার্স অসুস্থ হয়ে পড়লে কী হবে?‌ তাই এটা খুব ভাল খবর। প্রত্যেককে আমার অভিনন্দন। তাঁরা সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।’‌
কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ অনেকটা দূর। সেই কারণে সেখানে যাতে পরিস্থিতির ওপর নজরদারির সমস্যা না হয় তার জন্য অভিজ্ঞ চিকিৎসক এসএসকেএম হাসপাতালের ডা.‌ গোপালকৃষ্ণ ঢালিকে সেখানে পাঠানো হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তাঁর সঙ্গে যাবেন ডা.‌ অভিজিৎ চৌধুরি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি রিপোর্ট দেবেন সরকারের কাছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন তথ্য দিয়ে বলেন, করোনা আক্রান্তদের সুস্থ হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। এখন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ১৬ জন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে বুধবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ভাল আছেন। আরও দুজন আক্রান্তের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে। এই হাসপাতালে আরও ৮২টি শয্যা করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করার জন্য তৈরি রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিন বৈঠকে বিশেষজ্ঞ কমিটির দুই চিকিৎসক ডা.‌ সুকুমার মুখার্জি ও ডা.‌ অভিজিৎ চৌধুরি ছিলেন। ডা.‌ সুকুমার মুখার্জি বলেন, ‘‌লকডাউন হওয়াতেই পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে। আরও নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। নিজেদের রক্ষা করতে আরও সতর্ক হতে হবে। যে সব অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেখানে গৃহবন্দি থাকা সুনিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসক নার্সদের করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতেই হবে। আরও ১৫ দিন যদি এভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে আমাদের পক্ষেই ভাল।’‌
ডা.‌ অভিজিৎ চৌধুরি বলেন, ‘‌বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে অ্যাডভাইসরি দিচ্ছে। এই অ্যাডভাইসরি তৈরি করার ব্যাপারে এ রাজ্যের চিকিৎসকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ রাজ্যে করোনা চিকিৎসা কীভাবে আরও উন্নত করা যায় সে বিষয়ে গবেষণা হচ্ছে। যাঁরা ভাল হয়ে যাচ্ছেন তাঁদের থেকে রক্ত নিয়ে সঞ্চয় করে রাখা হচ্ছে। পরে তা মানুষের চিকিৎসায় কাজে লাগানো যায় কিনা তা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। আক্রান্তদের এবং সংক্রামিত এলাকা দ্রুত চিহ্নিতকরণের কাজে সফটওয়্যারকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছেন।’‌
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‌রক্তের ঘাটতি মেটাতে পুলিশ প্রতিদিন রক্তদান শিবির করছে। এখনও পর্যন্ত ২৭ হাজার বোতল রক্ত সংগ্রহ হয়েছে। পিপিই আমরা পেয়েছি ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ১০০টি। এন ৯৫ মাস্ক পেয়েছি ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৫০টি। দ্বিস্তর ও ত্রিস্তর মাস্ক পেয়েছি ৭ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৫০টি। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৪২ হাজার ২৫১ লিটার। গ্লাভস ২ লক্ষ ৯৯ হাজারটি। থার্মালগান ৫ হাজার। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের মতো বড় ক্লাব–‌সহ রাজ্যের জরুরি তহবিলে অনেকে সাহায্য দিচ্ছেন। এই অর্থ আমাদের খুবই কাজে লাগছে।’‌
‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top