রিনা ভট্টাচার্য: রাজ্যে লকডাউনের দিন বদল হল।
এই সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নানা উৎসব রয়েছে। তাই দিন বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, মানুষের ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে দিন বদল করা হয়েছে। সামজের বিভিন্ন স্তর থেকে রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছিল, স্থানীয় উৎসব রয়েছে। লকডাউনের কারণে তা পালনে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা বিবেচনা করে দেখা হোক। সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে রাজ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে, লকডাউনের পূর্ব ঘোষিত দিনক্ষণে কিছু পরিবর্তন করা হল।
 নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, চলতি মাসে অর্থাৎ আগস্টের ৫ তারিখ (‌বুধবার)‌, ৮ (শনিবার‌), ২০ (বৃহস্পতিবার‌), ২১ (শুক্রবার‌)‌, ২৭ (বৃহস্পতিবার‌), ২৮ (শুক্রবার‌) এবং ৩১ তারিখ (সোমবার‌) রাজ্যে সম্পূর্ণ লকডাউন থাকবে। পূর্ব ঘোষিত লকডাউনের দিনগুলি ছিল আগস্টের ৫, ৮, ১৬, ১৭, ২৩, ২৪ এবং ৩১ তারিখ।
সূত্রের খবর, ১৬ আগস্ট পার্সিদের নববর্ষ। তাই এই সম্প্রদায়ের কাছে রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি জানানো হয়েছিল, ওই দিনে যেন লকডাউন না করা হয়। রাজ্য তাদের অনুরোধে সম্মত হয়েছে। যদিও তাঁরা বাড়িতে বসেই নববর্ষ পালন করবেন। এছাড়া বর্ষায় ১৬, ১৭ এবং ১৮ আগস্ট— এই সময়ে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া–সহ দক্ষিণবঙ্গ এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় স্থানীয় ভাবে মনসা পুজোর আয়োজন করা হয়। ফলে ১৭ তারিখেও যদি লকডাউন থাকে তাহলে পুজোর কাজে অসুবিধা হতে পারে। এই সময়ে মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের কিছু উৎসব রয়েছে। তাই দিন বদল করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙার উদ্দেশ্যে জুলাই মাসের মাঝামাঝি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সপ্তাহে দুদিন করে লকডাউন করা হবে। সেই অনুসারে জুলাই মাসের ২৩ তারিখ থেকে সপ্তাহে দুদিন লকডাউন করা হয়। জুলাই মাসের ২৩, ২৫ এবং ২৯ তারিখে লকডাউন ছিল। অগস্ট মাসে ২ এবং ৯ তারিখে লকডাউন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে তার দিন বদল করা হয়। কারণ ২ তারিখ ছিল উদুজ্জোহার পরেরদিন এবং রাখির আগের দিন। ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। 
‌এদিকে, কামারহাটি পুরসভা এলাকায় মঙ্গলবার থেকে স্থানীয়ভাবে লক ডাউন থাকছে। সময়সীমা সকাল ৬টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত করা হযেছে। বাকি দিনগুলো রাজ্য সরকারের নির্দেশ মতো চলবে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top