তুফান মণ্ডল: প্রধান, উপপ্রধান–সহ ৮ জন সদস্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় ফের একটি গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে এল। ঘটনাটি ঘটেছে আরামবাগের সালেপুর–২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে। লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এই পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জিত অধিকারী, উপপ্রধান ঝুমা কারক–সহ ৮ জন সদস্য বিজেপি–তে যোগ দেন। এর আগে ১৪ সদস্যের এই পঞ্চায়েতের সকলেই তৃণমূল থেকে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ওই ৮ জন সদস্য বিজেপি–তে চলে যাওয়ায় পঞ্চায়েতটিও বিজেপি–র দখলে চলে যায়। কিন্তু বিজেপি–তে যোগ দেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই প্রধান, ‌উপপ্রধান–সহ বাকি সদস্যদের মোহভঙ্গ হয়। তঁারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তাই আবার তৃণমূলে ফেরার আবেদন করেন। নেতৃত্ব সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার পর শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে মন্ত্রী ববি হাকিমের হাত ধরে তঁারা ফের তৃণমূলে যোগদান করেন। 
মন্ত্রী তঁাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। আবার তৃণমূলে ফিরে আসা প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জিত অধিকারী বলেন, ‘‌লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি–র দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের বেশ কয়েকজনকে মারধর করে। তখন আমরা প্রশাসন বা দলের অন্যান্য নেতৃত্বের কাছ থেকে তেমন ভাবে সহযোগিতা পাইনি। তাই অভিমানে ও দলীয় কর্মী–সমর্থকদের বঁাচাতেই বিজেপি–তে গিয়েছিলাম। যদিও বিজেপি–তে যাওয়ার পর আমরা বুঝতে পারি, তাদের কালচার বা সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের কালচার বা সংস্কৃতি খাপ খায় না। বাংলার একটা নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আছে। আর বিজেপি–র সংস্কৃতি হিন্দি বলয়ের সংস্কৃতি। ওই সংস্কৃতির সঙ্গে আমরা খাপ খাওয়াতে পারব না। তাদের মতো করে চলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমরা তখন আমাদের ভুল বুঝতে পেরে আবার তৃণমূলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। ওই ক’‌দিন আমরা বিজেপিতে গেলেও আমাদের মন ছিল তৃণমূলেই। তাই আমরা সহজেই ফিরে চলে আসি। আমরা বুঝতে পেরেছি এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কোনও বিকল্প নেই। তাই আমরা তঁার নেতৃত্বে বাংলার উন্নয়নে সামিল হয়ে আগামিদিনে কাজ করতে চাই।’‌ 
লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই সালেপুর–২ নম্বর অঞ্চল কার্যালয় ছাড়াও আরও ৯টি কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু  শনিবার সকালে সঞ্জিতবাবুর নেতৃত্বে ফের তৃণমূলের অঞ্চল কার্যালয়টি খোলা হয়। এই প্রসঙ্গে সঞ্জিতবাবু বলেন, ‘‌আবার আমরা এই কার্যালয় থেকে দলীয় কর্মী–সমর্থকদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বুথস্তরের বাকি কার্যালয়গুলিও খোলা হবে।’‌ যদিও এবিষয়ে বিজেপি–র আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, ‘‌তঁারা জনগণের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছিলেন। বিজেপি–তে যোগ দিয়েও লুটেপুটে খাবে ভেবেছিলেন। কিন্তু বিজেপি–তে ওইসব কাজ করা যায় না। তাই এখানে এসে তঁারা বুঝতে পেরে যান, এই দলে থেকে তঁারা সেইসব কাজ করতে পারবেন না। তাই তঁারা আবার তৃণমূলে ফিরে গেছেন।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top