দীপঙ্কর নন্দী: বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে তীব্র আক্রমণ করল তৃণমূল।
দিলীপবাবু রবিবার মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা হাতের বাইরে চলে গেছে। ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতিকে আমরা আবার বলব।’‌ রাজ্যপাল এদিন মমতা ব্যানার্জির কাছে জানতে চেয়েছেন, বাণিজ্য সম্মেলনে কত খরচ হয়েছে, কত মউ স্বাক্ষর হয়েছে। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি দিলীপবাবু সম্পর্কে বলেছেন, ‘‌দেশের সংবিধানকে দিলীপবাবুর দল তছনছ করছে। ৩৫৬ ধারা কখন কীভাবে জারি করতে হয়, তা তিনি জানেন না। এ তো আর ছেলেখেলা নয়। সকালে ব্যায়াম করলে স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্ক ভাল থাকে। ওঁর মস্তিষ্ক সুস্থ আছে কি না, সেটাই এখন দেখার। রাজ্যপাল সম্পর্কে আমার আর কিছু বলার নেই। আগেই বহুবার বলেছি। তিনি বাংলায় বিজেপি–র হয়ে কাজ করছেন। শিল্প নিয়ে যে সব প্রশ্ন করেছেন, তার জবাব নিশ্চয়ই পাবেন।’
দিলীপবাবু সম্পর্কে এদিন সুব্রত মুখার্জি বলেন, ‘‌রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে দরবার করলেও ৩৫৬ ধারা বাংলায় হবে না। তাই রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে অহেতুক সময় নষ্ট করা হবে। তার চেয়ে দিলীপবাবু ইউএনও–তে যান। সেখানে গিয়ে ৩৫৬ ধারা জারি করার দাবি করুন। আমার মনে হয়, দিলীপবাবু যা চাইছেন সেটা পাবেন। বিজেপি নেতারা বোধবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছেন। ওঁরা জানেন না, নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়া যায় না। রাজ্যপাল তো আর রাজ্যপাল নেই। তিনি তো বিজেপি নেতা। দিলীপবাবু, জগদীপ ধনকড় এঁরা সকলেই বাংলার বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে নেমেছেন।’‌
বিজেপি রাজ্য সভাপতির সমালোচনা করে সৌগত রায় বলেন, ‘‌আমার কাছে ওঁর কোনও গুরুত্ব নেই। প্রতিনিয়ত আলটপকা মন্তব্য করেন। দায়িত্বজ্ঞানহীন একজন নেতা। বাংলায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে কোথায়?‌ কখন ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ হয়, সেটা কি উনি জানেন?‌ কোনও গণহত্যা হয়নি। বড় কোনও ঘটনা ঘটেনি। কেন তাহলে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করা হবে?‌ ৫ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন, সেটা বিক্ষিপ্ত জায়গায়। তার মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনাও আছে। রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য ৫ আগস্ট কেন লকডাউন তুলতে হবে?‌ শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কোভিড নিয়ে এঁদের চিন্তা নেই। আজ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে পারল না। রামমন্দির করছে, আমাদের আপত্তি নেই। ৫ আগস্ট লকডাউন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঠিক বুঝেই করেছেন। শিলান্যাসের দিন বাড়িতে বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো হতেই পারে। লকডাউনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?‌ এঁরাই তো লকডাউনে থালা বাজিয়েছিলেন। রাজ্যপাল আরেকজন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তি। বিজেপি–র মুখপাত্র। আম্বানিদের জিও, সজ্জন জিন্দালদের সিমেন্টের কারখানার কথা সবই রাজ্যপাল জানেন। জেনেশুনে এ সব টুইট করছেন। ওঁর যদি প্রশ্নই থাকত, তাহলে চিঠি লিখতে পারতেন। আসলে উনি চিঠি লিখতে পারেন না। টুইটটা করতে পারেন। রাজস্থানে বিজেপি চক্রান্ত করছে। বাংলায় ওরা সেই খেলায় নেমেছে। করোনা নিয়ে এঁদের কোনও চিন্তা নেই। সেই ২০১১ থেকে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি লগ্নি আনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। লগ্নি এসেওছে। অশোভন সব মন্তব্য করছেন রাজ্যপাল। দিলীপবাবু ও রাজ্যপাল সব জবাব পাবেন।’
এদিন সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি রাজ্যপালের প্রশ্ন শুনে বলেছেন, ‘‌তিনি আগে সংবিধান ভাল করে পড়ুন। তারপর প্রশ্নটশ্ন করবেন।’

জনপ্রিয়

Back To Top