আজকালের প্রতিবেদন: বাঁশির সুরেই আনন্দময়ীকে জানানো হবে করোনা আর আমফানের কথা। তুলে ধরা হবে কষ্ট। আর এই সুর রেকর্ড করা নয়। একেবারেই ‘‌লাইভ’‌। টালাপার্ক সার্কাস ময়দানে বেলগাছিয়া সাধারণ দুর্গোৎসবের পুজোয়। বাজাবেন মিহির পানুয়া। কাকদ্বীপের এই শিল্পী অন্য সময় কলকাতার রাস্তায় বাঁশি বাজিয়ে ভিক্ষে করলেও, পুজোর ৪ দিন ব্যস্ত থাকবেন এই পুজোমণ্ডপে ‘‌থিম মিউজিক’‌-এর ওপর নিজের তৈরি সুর ফুটিয়ে তোলার কাজে। মঙ্গলবার যার শুভ মহরত হল। পুজো প্রাঙ্গণে বাঁশি বাজিয়ে শোনালেন তিনি। 
পুজো কমিটির অন্যতম যুগ্ম সচিব জয়দীপ সাহা জানান, করোনা এবং আমফানের ভয়াবহতার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হচ্ছে এবারের থিম মিউজিক। যার একটি অংশ বাজাবেন মিহির পানুয়া। মণ্ডপের মধ্যেই তাঁর বাজানোর জন্য আলাদা একটা জায়গা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। পাশ দিয়ে গেলেই শোনা যাবে বাঁশির সুর। 
এ বছর বেলগাছিয়া সাধারণ দুর্গোৎসব পা দিচ্ছে ৭৩তম বছরে। সমস্ত বিধিনিষেধ মেনেই আয়োজিত হবে পুজো। করোনা পরিস্থিতি এবং এই নিয়ে আটকে থাকা সমাজের কথা ভেবে পুজোর থিমের নামকরণ করা হয়েছে ‘‌আবদ্ধ’‌। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হচ্ছে পুজোমণ্ডপ। যে মণ্ডপে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবেন মিহির পানুয়া এবং তার বাঁশি। 
জয়দীপ জানিয়েছেন, ধারণাটা মাথায় আসে উল্টোডাঙার কাছে একদিন মিহির পানুয়াকে দেখে। লকডাউন পরিস্থিতিতে বাঁশি বাজিয়ে ভিক্ষে করছিলেন তিনি। কথায় কথায় জানতে পারা যায়, একটা সময় চাষের কাজ করলেও অতিমারী এবং আমফানে অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়াতে সংসার চালাতে এখন কলকাতায় এসে রাস্তায় রাস্তায় বাঁশি বাজান মিহির পানুয়া। আধুনিক থেকে পুরনো, বাঁশিতে সব সুরই তুলে ধরেন তিনি। কমিটির সবাই চিন্তা করলাম, এই লোকটার পাশে দাঁড়াতে হবে। ঠিক করা হল, আমাদের থিম মিউজিকের সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করতে হবে এবং লোকে যাতে তাঁকে দেখতেও পায় সেই ব্যবস্থাও করে দিতে হবে। মণ্ডপ শিল্পীকে বিষয়টা জানালে তিনি বলেন, আলাদা একটা জায়গা তিনি তৈরি করে দেবেন। 
ঠিক হয়েছে পুজোর দিনগুলোতে তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মণ্ডপেই থাকবেন এবং বাঁশি বাজাবেন। আর এই সুযোগ পেয়ে অভিভূত মিহির পানুয়া। তাঁর কথায়, ভাবতে পারিনি এ বছর পুজোটা এত ভাল কাটবে। আর এর জন্য শুধু আমি একা নই, আমার পরিবারও পুজো কমিটির কাছে কৃতজ্ঞ। সকলের মঙ্গল হোক।

জনপ্রিয়

Back To Top