গৌতম চক্রবর্তী
মদের বোতলের ভাঙা টুকরো দিয়ে স্ত্রীর গলায় কোপ এবং শ্বশুরকে (‌স্ত্রীর পালিত বাবা)‌ ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে পালাল জামাই।‌ পুলিশ জানিয়েছে, শ্বশুরের গোপনাঙ্গও কেটে নেওয়া হয়েছে। রক্তমাখা পোশাক শৌচালয়ে খুলে রেখে হাত–পা থেকে রক্ত ধুয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে খুনি। শনিবার সকালে এই বীভৎস জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে সোনারপুর থানার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষগ্রাম সুকান্ত সরণিতে।
এদিন সকালে ওই বাড়িতে ফুল তুলতে যান এক প্রতিবেশী। তিনি দেখেন, ঘরের দরজা খোলা, ভেতরে খাটে এবং মেঝেতে পড়ে রয়েছে দু’‌জনের রক্তাক্ত দেহ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমিতা পণ্ডিত (‌৩৫)‌ ও তাঁর পালিত বাবা বাসুদেব গাঙ্গুলির (‌৭৫) দেহ উদ্ধার করে‌ পুলিশ। অভিযুক্ত রমেশ পণ্ডিতের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মারাত্মক প্রতিহিংসা থেকেই এই ঘটনা। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পালিত বাবার অবৈধ সম্পর্ক র‌য়েছে— এই সন্দেহ থেকেও খুন হতে পারে।
মৃত বাসুদেব গাঙ্গুলি একসময় শিশু সাহিত্য সংসদে কাজ করতেন। বিয়ে করেননি। সুমিতাকে পালন করেন। রমেশ পণ্ডিতের সঙ্গে ৫ বছর আগে সুমিতার বিয়ে হয়। তাঁদের ৪ বছরের এক শিশুকন্যা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ইদানীং স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। বাসুদেববাবু ও সুমিতাকে মারধর করতেও শুরু করেছিল রমেশ। সোনারপুর থানায় বধূ নির্যাতনের অভিযোগও করেন স্ত্রী। বারুইপুর জেলার পুলিশ সুপার রশিদ মুনির খান জানান, খুনির রেখে যাওয়া রক্তমাখা পোশাকের সূত্র ধরেই তদন্ত চলছে।

জনপ্রিয়

Back To Top