চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
কাটোয়া, ৪ জুলাই

প্রকাশ্য রাস্তায় বিজেপি–র দুই গোষ্ঠীর হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি। শনিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে কাটোয়া শহরের আতুহাটপাড়ায়। বিজেপি নেত্রী তথা জেলা সম্পাদক সীমা ভট্টাচার্য–সহ উভয়পক্ষের কয়েকজন জখম হন। বর্ধমান পূর্ব লোকসভার বিজেপি সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্ল্যাকার্ড ও দলের পতাকা নিয়ে কাটোয়া, পূর্বস্থলী, মঙ্গলকোট–সহ পূর্ব বর্ধমান জেলার একদল বিজেপি কর্মী কৃষ্ণবাবুর অপসারণের দাবিতে তাঁর বাড়ির দিকে স্লোগান দিতে দিতে যাচ্ছিলেন। 
আতুহাটপাড়া মোড়ের কাছে কৃষ্ণবাবুর একদল অনুগামী বিজেপি–র পতাকা নিয়ে পথ আটকায়। শুরু হয় বচসা, হাতাহাতি। তবে কৃষ্ণবাবুর বিরোধীরা বাধা পেয়েও দমেননি। শহরের কারবালাতলায় তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিজেপি–র ওই নেতা–কর্মীদের দাবি, লোকসভা ভোটের প্রচারের টাকা, বিভিন্ন সভা সংগঠনের জন্য খরচের টাকা, লকডাউন ও আমফানে দলের দুঃস্থ কর্মীদের জন্য পাঠানো সাহায্যের টাকা কৃষ্ণবাবু আত্মসাৎ করেছেন। বিক্ষুব্ধদের এক নেতা চঞ্চল মণ্ডল বলেন, ‘উনি দালালি করছেন। পুরনো কর্মীদের হেনস্থা করছেন। দলের টাকার হিসেব দেন না। ওঁকে সভাপতির পদ থেকে না সরানো পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’ কৃষ্ণবাবুর বাড়ির সামনে স্লোগান–বিক্ষোভের জেরে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কৃষ্ণবাবুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁকে অপসারণের দাবিতে কাটোয়া শহরের কারবালাতলায় কৃষ্ণবাবুর বাড়ির সামনে এই নিয়ে এক মাসে তিনবার একই দাবিতে বিক্ষোভ–অবস্থান কর্মসূচি করলেন বিজেপি–র নেতা–কর্মীরা। এর মাঝে কাটোয়ার পানুহাট ও কালনার বৃদ্ধপাড়ায় গিয়ে একই অভিযোগে দলের লোকজনের বিক্ষোভ ও হেনস্থার মুখে পড়তে হয় কৃষ্ণবাবুকে। যদিও এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে কৃষ্ণবাবু বলেন, ‘পিছন থেকে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে। এভাবে বিজেপি–কে রোখা যাবে না।’ এই ঘটনায় কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি বলেন, ‘কৃষ্ণ ঘোষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে যাঁরা বিক্ষোভ কর্মসূচি করছেন, তাঁরা সকলেই বিজেপি–র পরিচিত মুখ।’

জনপ্রিয়

Back To Top