গৌতম চক্রবর্তী, ক্যানিং: ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসক দুই করোনা যোদ্ধার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিলেন গ্রামবাসীরা। খবর পেয়েই প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করে। গ্রামবাসীদের ফতোয়া উড়িয়ে ওই করোনা যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। 
শনিবার কোভিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় পজেটিভ রিপোর্ট আসে ক্যানিং কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসক সমর রায় ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রবীরকুমার মণ্ডলের। তারপর থেকেই এই দুই চিকিৎসক কার্যত গৃহবন্দি। তাঁরা ক্যানিংয়ের দিঘির পাড় পঞ্চায়েতের তাঁতকল মোড়ে একসঙ্গেই একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। তাঁদের রিপোর্টের কথা জানতে পেরে এলাকার মানুষ দুই চিকিৎসককে সেখান থেকে তুলে দেওয়ার জন্য ঝামেলা শুরু করে।  ফতোয়া জারি করে ওই বাড়িতে থাকা যাবে না।  এই ঘটনায় ওই দুই চিকিৎসক আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যেখানে মানুষের জন্য বাড়িঘর এবং পরিবার ছেড়ে তাঁরা দিন রাত এক করে কাজ করছেন, সেখানে তাঁদের ওপরই ফতোয়া জারি করা হচ্ছে!‌ খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসেন ক্যানিং ১ বিডিও নীলাদ্রিশেখর দে। তিনি গ্রামবাসীদের বোঝান। অভয় দেন। তবে পাশাপাশি তিনি এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন করোনা যোদ্ধাদের ওপর কোনও আক্রমণের খবর এলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অমানবিক কাজকে মেনে নেওয়া হবে না। যাঁরা এগুলি করছেন তাঁরা সরকারি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন। 
প্রসঙ্গত, এর আগেও ক্যানিংয়ের এক স্বাস্থ্য আধিকারিক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তিনি যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়িতে থাকা নার্স ও পুলিশ কর্মীদের সঙ্গেও অমানবিক আচরণ করা হয়। সেখানেও ফতোয়া জারি করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। করোনা আক্রান্ত দুই চিকিৎসক বলেন, ‘‌যেখানে আমরা সব সময় মানুষের সেবা করি, সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে এই ফতোয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাইছেন না। অথচ যাঁরা করোনা রোগীদের চিকিৎসা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে আক্রমণ করেছেন।’‌
বাড়ি মালিক গোবিন্দ সাহাকে চেপে ধরা হয়। গ্রামবাসীদের চাপের মুখে পড়ে তিনি বাড়ি ছাড়ার কথা বলেন বলে জানান। পরে বিডিও এসে তঁাদের বুঝিয়েছেন। বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। আগামী মঙ্গলবার ওই এলাকা জীবাণুমুক্ত করা হবে বলেও ব্লক প্রশাসনের তরফে গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছে। তার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জনপ্রিয়

Back To Top