সাগরিকা দত্তচৌধুরি: সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি রাজ্যে বহু বেসরকারি হাসপাতালে নার্সিংয়ের বিভিন্ন কোর্স করানো হয়। দেওয়া হয় ট্রেনিংও। রাজ্যে নার্সিং পেশায় আগের তুলনায় বহু পড়ুয়া আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সরকারির পাশাপাশি অনেক বেসরকারি হাসপাতাল নার্সিংয়ের কোর্স চালু করেছে। চলতি বছরে আরও অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে খুলবে নার্সিং স্কুল ও কলেজ। তার জন্য নার্সিং শিক্ষার সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ইন্ডিয়ান নার্সিং কাউন্সিলের কাছে আবেদন করা হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি জায়গায় ওয়েস্টবেঙ্গল নার্সিং কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করেছেন। নতুন স্কুল–কলেজ খুললে কিছুটা হলেও ভিনরাজ্যের ওপর ভরসা কমবে বলে মনে করছেন বিভিন্ন নার্সিং স্কুলের কর্তৃপক্ষ।
কলকাতার অনেক বেসরকারি হাসপাতালে কেরল, ওডিশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা, মণিপুর থেকে প্রচুর নার্স আসেন কাজ করতে। সম্প্রতি বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫০০–র কাছাকাছি নার্স চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে নিজেদের রাজ্যে ফিরে গেছেন। তার মধ্যে শুধু মণিপুরেরই ৩৭৭ জন নার্স ছিলেন। এছাড়াও ত্রিপুরা, ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, কেরল, মেঘালয়ের নার্সও রয়েছেন। নার্সিং কাউন্সিল সূত্রে খবর, এরাজ্যে নার্সিং কলেজ ৩২টির মতো রয়েছে। তার মধ্যে ১৩টি সরকারি, ১৯টি বেসরকারি কলেজ। যেখানে বিএসসি, পোস্ট বেসিক বিএসসি নার্সিং, এমএসসি নার্সিংয়ের মতো উচ্চ ডিগ্রির সুযোগ রয়েছে। সরকারি–বেসরকারি মিলিয়ে রাজ্যে নার্সিং স্কুল চালু রয়েছে ৮৪টি। যেখানে জিএনএম ডিপ্লোমা কোর্স আবার কোথাও কোথাও এএনএম কোর্সও পড়ানো হয়। এই বছর নতুন আরও ৬–৭টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নার্সিংয়ের স্কুল ও কলেজ স্তরের কোর্স চালু হতে চলেছে। সোনারপুরের লিভার হাসপাতাল, ফুলেশ্বরের এক বেসরকারি হাসপাতালও তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।          
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের নার্সিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মানসী জানা বলেন, ‘‌ফি বছর জিএনএম, বিএসসি নার্সিং মিলিয়ে ৪ হাজারের মতো ব্যাচ বের হয়। নার্সিং পেশায় এখন ভাল সুযোগ রয়েছে। অন্য রাজ্যের তুলনায় এরাজ্যে নার্সিং স্কুল–‌কলেজের সংখ্যা কম থাকায় একটু হলেও এখানে ঘাটতি থাকে। এবছর আরও কিছু নার্সিং স্কুল–কলেজ চালু হলে তাতে কিছুটা হলেও নার্সের সংখ্যা আগামী দিনে বাড়বে, ঘাটতিও দূর হবে।’‌  
ক্যালকাটা হার্ট ক্লিনিক হাসপাতালে গত বছর ৫০টি আসনের তিন বছরের জিএনএম নার্সিং প্রশিক্ষণ কোর্স চালু হয়েছে। এবছরে আগস্টের প্রথম দিকে নতুন ব্যাচের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে ঘোষণা করা হবে। হাসপাতালের সচিব ডাঃ কৃষ্ণ প্রধান জানিয়েছেন, অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেপ্টেম্বরে নতুন ক্লাস শুরু হবে। পঠন–‌পাঠনের সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্ডে হাতে–‌কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সরকারিতে এখন প্রচুর সুযোগ–‌সুবিধা রয়েছে। বেসরকারিতে কম–বেশি নার্সের ঘাটতি থাকবেই।
আরএন টেগোর হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানান, তাদের জিএনএম, বিএসসি, এমএসসি ছাড়াও ক্রিটিক্যাল কেয়ার, নিউরো, কার্ডিয়াক কেয়ারের স্পেশ্যালাইজড কোর্সও হয়। এখান থেকে পাশ করে বেরোলে সাধারণত নিজেদের হাসপাতালেই চাকরির সুযোগ আগে দেওয়া হয়। কিন্তু পরে আরও ভাল সুযোগ পেলে নার্সরা চলে যান। বেসরকারি থেকে পাশ করা সত্ত্বেও সরকারি চাকরির দিকেই অধিকাংশের ঝোঁক থাকে। বেতন কাঠামোরও অনেক পার্থক্য রয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top