গৌতম মণ্ডল
ডায়মন্ড হারবার, ২১ সেপ্টেম্বর

তাঁর ছোটবেলা কেটেছে দারিদ্রতার সঙ্গে। একসময় মাধ্যমিক পাশ করার পর ছেদ পড়েছিল পড়াশোনায়। নানান চড়াই উতরাই পেরিয়ে তিনি একদিন উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। শিক্ষক হন। ততদিনে তিনি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সান্নিধ্যে এসেছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের আশ্রমে বন্যাত্রাণের জন্য কাজও করেছেন। আশ্রমের সেই মহারাজ স্বামী যোগানন্দজির নির্দেশে ডায়মন্ড হারবারের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখান থেকেই অবসর নেন শিক্ষক কামদেব শাসমল। অবসরের পর নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়ালেন অভাবী–‌‌মেধাবী পড়ুয়াদের।
 শনিবার ডায়মন্ড হারবার সংস্কৃতি পরিষদ প্রাঙ্গণে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৫ শতাংশ নম্বরপ্রাপ্ত অথচ অভাবী পরিবারের ১৭ জন পড়ুয়ার হাতে তুলে দিলেন ২ হাজার করে টাকা। আগামী দিনেও পড়ুয়াদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অশীতিপর কামদেববাবু। এই অনুষ্ঠানে ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের মহকুমাশাসক সুকান্ত সাহা ও ডায়মন্ড হারবার ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের মহারাজ ত্যাগব্রতানন্দজি মহারাজ–‌‌সহ বিশিষ্টরা। আদতে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বঙ্কিমনগরের বাসিন্দা কামদেববাবু। ছোটবেলায় আর্থিক দুরবস্থার জন্য পড়াশোনায় বারে বারে ছেদ পড়েছিল। কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয় ও সঙ্কল্প তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। গত ৫৩ বছর ধরে ডায়মন্ড হারবারের নুনগোলার বাসিন্দা তিনি। অবসর বয়সে পড়াশোনা ও গবেষণা নিয়েই থাকেন। কামদেববাবু বলেন, ‘‌সংবাদ মাধ্যম থেকে আমি অভাবী–মেধাবীদের কথা জানতে পারি। তা দেখে ১৭ জনকে বেছে যোগানন্দ বৃত্তি নামে আর্থিক সাহায্য করলাম।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top