অমিতাভ সিরাজ, যজ্ঞেশ্বর জানা
দার্জিলিং হোক কিংবা সুন্দরবন- লক্ষ্য শিল্পায়ন।তাতে মানুষের আর্থিক নিশ্চয়তা ঘটে। আর এ কথা মাথায় রেখে জেলায় জেলায় শিল্পকে ছড়িয়ে দিতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।যা সারা দেশে মডেল তৈরি হবে।কাল বুধবার দিঘায় বাণিজ্য সম্মেলনে এই ভাবনাকে সামনে রেখে জোরদার আলোচনা করবেন শিল্পপতি ও বাণিজ্য প্রতিনিধিরা।অন্তত এক হাজার শিল্পপতি প্রতিনিধি যোগ দেবেন এই বাণিজ্য সম্মেলনে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।উল্লেখ্য, গত বেশ কয়েক বছর ধরে কলকাতায় বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলন করে আসছে রাজ্য সরকার।চলতি বছরে উত্তরবঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শিল্প সম্মেলন হয়।এবার তারই রেশ ধরে শিল্পকে বাংলার গ্রামেগঞ্জে পৌঁছে দিতে দ্বিতীয় এই উদ্যোগ।মঙ্গলবার সন্ধেয় আন্তর্জাতিকমানের দিঘা কনভেনশন সেন্টারে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ড: অমিত মিত্র বলেছেন, "সারা বাংলায় শিল্পে যে আঁচ আছে, তাকেই জেলায় জেলায়, গ্রামে-গঞ্জে  ছড়িয়ে দিতে চাই আমরা।বিনিয়োগের সঙ্গে শিল্পের এই রসায়ন সারা দেশে মডেল তৈরি করবে।যা আগে কখনও হয়নি।" অর্থমন্ত্রী এদিন আরও বলেন,"ক্ষুদ্র-মাঝারি  এবং বড়মাপের শিল্প নিয়েও আলোচনা হবে।কলকাতায় বিশাল মাপের শিল্প সম্মেলন হয়।কিন্তু ধীরে ধীরে তাকে আমরা জেলায় এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছি।" তাঁর ব্যাখ্যা, বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এভাবেই শিল্পকে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘা শুধু সৈকত শহর নয়, পর্যটনের সঙ্গে শিল্পকেও এখানে গুরুত্ব দিয়েছেন মমতা।গত আগস্টেই 'দিঘাশ্রী' কনভেনশন সেন্টারের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।দুদিনের এই সম্মেলন উপলক্ষ্যে রীতিমতো সাজোসাজোরব এখানে।কার্যত শিল্পপতি ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের নক্ষত্র সমাবেশ ঘটতে চলেছে বলে নিজেই এদিন জানালেন অর্থমন্ত্রী।অমিতবাবুর কথায়, "দিঘায় যে পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে, তা অভাবনীয়!৭ কিমি মেরিন ড্রাইভ তৈরি হচ্ছে।অজস্র হোটেল- পর্যটনকে ঘিরে আমাদের আশা গোয়াকেও ছাপিয়ে যাবে দিঘা অদূর ভবিষ্যতে।এর সঙ্গে শিল্পও জড়িত।বড় বড় কোম্পনি তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে সেমিনার করছেন এখানে।সব মিলিয়ে শিল্পের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।" অর্থমন্ত্রীকে এদিন প্রস্তাবিত তাজপুর বন্দর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়।জবাবে তিনি বলেন,"কালকের সম্মেলনের জন্য চমকটা থাক।শুধু তাজপুর কেন, আরও অনেক চমক রয়েছে।" স্বভাবতই প্রস্তাবিত ওই বন্দরের শিলান্যাস হয় কিনা তাও দেখার।
এদিকে রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় রঙবেরঙের প্ল্যাকার্ড, কোথাও বা সুন্দর তোরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে বাণিজ্য সম্মেলন উপলক্ষ্যে। কনভেনশন সেন্টারও সেজে উঠেছে ফোয়ারা, আলোর দ্রযুতিতে।প্রেক্ষাগৃহে ১ হাজার আসন রয়েছে।তার বাইরেও ক্লোজ সার্কিট  টিভির মাধ্যমেও অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা থাকছে।গোটা ব্যবস্থার তদারকিতে রয়েছে রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগম।এদিন কনভেনশন সেন্টারে এসে ঘুরে দেখে গেলেন অর্থমন্ত্রী ছাড়াও অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ও শিল্পসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, শিল্পোন্নয়ন নিগমের অধিকর্তা বন্দনা যাদব প্রমুখ।

জনপ্রিয়

Back To Top