আজকালের প্রতিবেদন
‘‌বাম আমলে পঞ্চায়েতে ১০০ শতাংশ চুরি হত। এখন কোথাও কোথাও ৭ থেকে ৮ শতাংশ হচ্ছে। আমি আমার দলকে ছেড়ে কথা বলিনি। পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে।’‌ বুধবার হাজরায় সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আমফানের ত্রাণের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌২–‌৩টি জায়গায় ছোট ঘটনা ঘটেছে। তা  নিয়ে বিরোধীরা রাজনীতি করতে নেমে পড়েছে। অনেক চোরকে তাড়িয়েছি। ৯০ শতাংশ দুর্নীতি কমিয়েছি। সিপিএমের কাজই ছিল চুরি করা। চুরি করার পদ্ধতি ওরা ভাল জানত।’‌
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‌আমফানের ত্রাণ নিয়ে যে সব অভিযোগ এসেছে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ গত কয়েকদিনে কয়েকটি জেলায় দুর্নীতির অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রাণ পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবারই বলেছেন, দুর্নীতির সঙ্গে তিনি কোনও আপস করবেন না। যাঁরা পার্টির বদনাম করছেন তাঁদের বহিষ্কার করলে কিছু এসে যাবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একদিনে সবার অভ্যেস যায় না। দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। আমফানের পর টানা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ অবরোধ হয়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘‌ঘূর্ণিঝড়ের পর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আমাকে গালি–‌গালাজ করা হল। চেন্নাইয়ে এক সময়ে ২০ দিন বিদ্যুৎ ছিল না। মুম্বইয়ে সমস্যা হয়, দিল্লিতেও হয়। বাম আমলে বলা হত, লোডশেডিংয়ের সরকার আর নেই দরকার। এখন লোডশেডিং তো উঠেই গেছে।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাজ্য ত্রাণ সাহায্য দিচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‌সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে চাল–‌গম কিনে সেটাই দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতো এফসিআইয়ের খারাপ চাল নয়।’‌ আজ আয়ুষ্মান ভারত–‌সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিরুদ্ধেও সরব হন মমতা। তিনি বলেন,‘‌কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত–‌এর দু'বছর আগে আমরা স্বাস্থ্যসাথী এনেছিলাম। আয়ুষ্মান প্রকল্পে শতকরা ৬০ টাকা রাজ্যকে দিতে হয়, মাত্র দেড় কোটি মানুষ এর আওতায় আসে। আর স্বাস্থ্যসাথীর পুরো প্রিমিয়াম দেয় রাজ্য সরকার। তাহলে কেন্দ্রীয় প্রকল্প কেন নেব? স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ভেলোরের মতো হাসপাতালেও চিকিৎসার সুযোগ আছে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top