দীপঙ্কর নন্দী: বিজেপি এবার বাইরের রাজ্যের ৫ নেতাকে বাংলার ৫ জেলার দায়িত্ব দিয়েছে। মঙ্গলবার তৃণমূলের সাংসদ ও দলের মুখপাত্র সৌগত রায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌বোঝাই যাচ্ছে, রাজ্য বিজেপি অপদার্থ, তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের আনতে হচ্ছে। রাতারাতি এঁরা এসে কিছু করতে পারবেন না। বাংলাকে এঁরা চেনেন না। বাংলার মাটি সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। ব্লক স্তরের কোনও নেতার নাম জানেন না। আমাদের কাছে এঁদের কোনও গুরুত্ব নেই।’‌
বিজেপি–র দায়িত্ব নিয়ে আসছেন মেদিনীপুরে মহারাষ্ট্রের পুণের বাসিন্দা সুনীল দেওধর, রাঢ়বঙ্গে উত্তরপ্রদেশের বিনোদ সোনকার, উত্তরবঙ্গে উত্তরপ্রদেশের হরিশ দ্বিবেদী, কলকাতায় দিল্লির বাসিন্দা দুষ্মন্ত গৌতম ও মুম্বইয়ের বাসিন্দা বিনোদ তাওড়েকে নবদ্বীপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২১–এর বিধানসভায় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে। সহকারী পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য। এ ছাড়াও কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে রয়েছেন অরবিন্দ মেনন ও শিবপ্রকাশ।
সৌগত বলেন, ‘‌বাংলার মাটি চিনতে গেলে বাংলারই নেতা হওয়া দরকার। নির্বাচনে প্রচুর টাকা খরচ করবে বিজেপি। বিজেপি ভাবছে এঁদের দিয়ে বাংলা দখল করা যাবে। কাজটা এত সহজ নয়। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলার যে উন্নয়ন করে চলেছেন, তা বিজেপি নেতারা জানেন না। গ্রামবাংলায় ব্লক থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত তৃণমূলের সংগঠন মজবুত, ঐক্যবদ্ধ। গ্রামের লোকেদের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। শহরের সঙ্গে গ্রামবাংলার সেতুবন্ধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলা দখল করা বিজেপি–র স্বপ্নই থাকবে।’‌
বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেছেন, বাংলায় বোমা–বারুদের কারখানায় ভরে গেছে। সৌগত বলেন, ‘‌দিলীপবাবু বরাবরই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন। আলটপকা কথা বলেন। তিনি এই ধরনের মন্তব্য করে সুনাম অর্জন করেছেন। দিলীপবাবু জেনে রাখুন, অন্য রাজ্যের তুলনায় বাংলায় আইনশৃঙ্খলা সবচেয়ে ভাল। এখানে বাহুবলীরা পুলিশকে খুন করে না।’‌
রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের কড়া সমালোচনা করে সৌগত বলেন, ‘‌বাংলায় নিরাপত্তা নেই। এই মন্তব্য করেছেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল আবার সংবিধানের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জি না নামলে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ত না। শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারীরা তো ছিলেনই। রাজ্যপালকে বলছি, এই ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। নিজের পদের মর্যাদা রাখুন। নুরুল হাসান, গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর মতো রাজ্যপাল আমরা দেখেছি। জগদীপ ধনকড়ের মতো রাজ্যপাল বাংলায় আসেননি। অনেকবার বলেছি, তিনি বিজেপি নেতার মতো কথা বলছেন। রাজভবনকে বিজেপি অফিস তৈরি করেছেন। এ সব কি রাজ্যপালের কাজ?‌ আলু–পেঁয়াজ নিয়ে কাটমানি খাওয়ার কথা বলেছেন দিলীপবাবু। তিনি নিশ্চয়ই জানেন অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কেন্দ্রের হাতে। রাজ্যের হাতে কিছু নেই। তবুও মুখ্যমন্ত্রী এনফোর্সমেন্ট ‌বিভাগের লোকেদের নামিয়ে বাজারে বাজারে অভিযান করাচ্ছেন। পাশাপাশি দিলীপবাবুরা বড় বড় বক্তৃতা দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকার মজুতদার ও কালোবাজারীদের সাহায্য করছে। আলু এখন হিমঘরে। মালিকেরা সহযোগিতা করছেন না। তৃণমূল সম্পর্কে বিজেপি নেতারা অবান্তর কথা বলছেন।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top