বুদ্ধদেব দাস
দঁাতনে নিহত তৃণমূল কর্মীর পাশে দঁাড়ালেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহতের পরিবারের হাতে তুলে দিলেন ৫ লক্ষ টাকার চেক এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরিরও আশ্বাস দেন তিনি। দল এবং সরকার যে সর্বতভাবে নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে রয়েছে সে কথাও তঁাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। 
উল্লেখ্য, গত ৩০ শে নভেম্বর দঁাতনে এনআরসির প্রতিবাদে তৃণমূলের একটি মিছিল বেরয়। দঁাতন বাজারের ঘোলই মোড়ের কাছে মিছিল আসতেই সেখানে আগে থেকে জমায়েত করে থাকা বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের বচসা বাধে। তারা তৃণমূল নেতা–কর্মীদের নাম করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তৃণমূলের নেতা– কর্মীরা তাদের বুঝিয়ে মিছিল সেখান থেকে বার করে নিয়ে যান। কিছুটা যেতেই বিজেপি কর্মীরা পেছন থেকে অতর্কিতে হামলা চালায়। তাদের হাতে ছিল বাঁশ, লাঠি, রড। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর আহত হন কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। তঁাদের দঁাতন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে মাধব ঘোড়ই ও রামচন্দ্র ঘোড়ইয়ের আঘাত ছিল গুরুতর। রামচন্দ্রের দুটি পা ভেঙে দেওয়া হয়। মাধবের মাথায় ছিল গুরুতর আঘাত। তঁাকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার রাতে সেখানেই তঁার মৃত্যু হয়। দলীয় কর্মীর মৃত্যুর খবর আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দঁাতনের তৃণমূল কর্মী–সমর্থকরা।  সোমবার খড়্গপুরে প্রশাসনিক সভায় যোগ দিতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সভা শেষে বিকেলে তিনি দঁাতনে চলে যান। মাধবের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের হাতে দলের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা এবং আগামিদিনে সর্বতভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন শুভেন্দু। ওইদিন বিজেপি দুষ্কৃতীদের আক্রমণে আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং এই ঘটনায় জড়িত সকল দোষীদের দ্রুত শাস্তি পাবে বলে নিহত ও আহতদের পরিবারকে আশ্বাস দেন তিনি। দঁাতনের তৃণমূল বিধায়ক বিক্রম প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার পুনরায় তিনি দাঁতনে আসেন নিহত কর্মীর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে।
এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী জানান, এটা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। যে দলের সভাপতি ও রাজ্য নেতারা সব সময় তৃণমূল কর্মীদের মেরে ফেলার, কেটে ফেলার কথা বলেন সেই দলের কর্মীরাই এঘটনা ঘটিয়েছে। একজনও ছাড়া পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তৃণমূল কর্মীদের প্রাণে মেরে ফেলার জন্যই এই ধরনের ঘটনা করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ১১ জন গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে কর্মী–সমর্থকদের আশ্বাস দেন শুভেন্দু। এর পাশাপাশি পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
দঁাতনের ঘোলই মোড়ে বিজেপি কর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে দঁাতনে।
 

জনপ্রিয়

Back To Top