যজ্ঞেশ্বর জানা
নন্দকুমার, ১১ জুলাই

ফের মনুয়া–‌কাণ্ডের ছায়া। বিবাহ–‌বহির্ভূত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রেমিকের সঙ্গে ছক কষে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল গৃহবধূর বিরুদ্ধে। খুন করে দেহ লোপাটের অভিযোগও উঠেছে। নন্দকুমার থানার ফতেপুর গ্রামের এই ঘটনায় শনিবার দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঘরের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় মৃতদেহ। মৃতের নাম শেখ নুর মহম্মদ (৪০)। ধান্যঘরের বাসিন্দা তিনি। খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী আশমা বিবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার প্রেমিক স্থানীয় শ্যামসুন্দরপুরের বাসিন্দা শেখ দুলাল ও তার মা ফতেপুরের বাসিন্দা রাবেয়া বিবিকেও। ঘটনায় যুক্ত দুলালের সাকরেদদের খোঁজ করছে পুলিশ। 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরকীয়া নিয়ে ঝামেলা লেগে থাকত দম্পতির মধ্যে। মাসদেড়েক আগে সালিশি সভাও বসেছিল। অভিযোগ, তার জেরেই প্রেমিক ও তার সাকরেদদের বাপের বাড়িতে ডেকে এনে স্বামীকে খুন করায় ওই মহিলা। তমলুকের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মামদাদুল হাসান বলেন, ‘‌নিখোঁজ ডায়েরি পেয়ে ঘটনার তদন্তে নেমেছিল নন্দকুমার থানার পুলিশ। তদন্তে নামার তিন দিনের মধ্যেই খুনের ঘটনার কিনারা হয়। অপরাধ স্বীকার করেছে ধৃতরা সকলে।’‌ পুলিশি জেরায় তারা জানিয়েছে, খুন করে দেহ ঘরের মেঝে খুঁড়ে পুঁতে ফেলে তারা। সন্দেহ এড়াতে মেঝের ওই অংশ ঢেকে ফেলা হয় কংক্রিটে। 
ভ্যান চালক নুরের সঙ্গে ১৬ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল আশমার। ১৪ ও ৮ বছরের দুই ছেলে রয়েছে। কাজের সুবাদে প্রায়ই বাড়ির বাইরেই থাকতেন নুর। সেই সুযোগে চিংড়ি ভেড়ির মালিক দুলালের সঙ্গে বিবাহ–‌বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে যায় আশমা। সম্প্রতি স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জানতে পারায় অশান্তি চরমে ওঠে। অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে (৩ জুলাই) নুরকে নিয়ে ফতেপুর গ্রামে বাপের বাড়ি যায় আশমা। রাতে স্বামী নুরের খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় সে। সেই খাবার খেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়ে নুর। তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তঁার গলার নলি কেটে খুন করে আশমা–দুলালরা। মঙ্গলবার নন্দকুমার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি জমা করে আসেন নুরের মা নুরজান বিবি। বৃহস্পতিবার রাতে দুলালের সঙ্গে আশমার ফোনে কথা শুনে সন্দেহ বাড়ে পরিবারের লোকেদের। পুলিশের দাবি, তারপর চেপে ধরতেই অপরাধ স্বীকার করে আশমা। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন মৃতের পরিবার ও গ্রামবাসীরা।‌

জনপ্রিয়

Back To Top