আজকালের প্রতিবেদন
পাওনা টাকা চাওয়ায় এক মহিলাকে অ্যাপ ক্যাবের মধ্যে খুন করে দিনভর কলকাতার রাস্তায় ঘুরিয়ে চৌবাগার কাছে ফেলে গেল চালক। ঘটনাটি ঘটেছে সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে। অভিযুক্ত অ্যাপ ক্যাব চালক শিবশঙ্কর মান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেশপ্রাণ শাসমল রোডে থাকতেন লক্ষ্মী দাস (‌৪৫)‌। পরিচারিকার কাজ করতেন। তাঁর স্বামী সুভাষ দাস জানান, শুক্রবার সকালেও লক্ষ্মী কাজে যান। দুপুরে বাড়ি না ফেরায় ফোনে যোগাযোগ করলে তাঁর মোবাইল সুইচড অফ পাওয়া যায়। খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারেন, সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ একটি বাড়ির কাজ করেন লক্ষ্মী। পরে যে বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল সেখানে যাননি। তিনি পুলিশে অভিযোগ জানান। বিভিন্ন সূত্র থেকে লক্ষ্মীর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন পাড়ারই বাসিন্দা শিবশঙ্করের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল লক্ষ্মীকে। খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যায় শিবশঙ্করকেও পাওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশ সূত্রে খবর, শিবশঙ্কর লক্ষ্মীকে কাকিমা ডাকতেন। সেই সূত্রে কয়েক মাস আগে ক্যাবের কিস্তির টাকা মেটাতে শিবশঙ্করকে ৩০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন লক্ষ্মী। ইদানীং টাকা ফেরত চাইছিলেন। রাতে মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন দেখে শিবশঙ্করের হদিশ পায় টালিগঞ্জ থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় শিবশঙ্কর জানায়, শুক্রবার সকালে লক্ষ্মীর সঙ্গে তাঁর রাস্তায় দেখা হয়। টাকা চাইলে লক্ষ্মীকে গাড়িতে বসিয়ে এসি চালিয়ে দেন শিবশঙ্কর। পথে বচসা শুরু হয়। সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে গাড়ি থামিয়ে আচমকা লক্ষ্মীর গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন শিবশঙ্কর। ক্যাবের মধ্যেই মৃত্যু হয় লক্ষ্মীর। এরপর দেহ নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরার পর রুবি মোড় থেকে কিছুটা ভিতরে গিয়ে খালে দেহ ফেলে তিনি পালান। ভবানীপুর এলাকা থেকে রক্তমাখা গাড়িটি উদ্ধার হয়েছে। যে অস্ত্রটি দিয়ে খুন করা হয়েছে, সেটি খোঁজা হচ্ছে।
টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে গন্ডগোলেই খুন বলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশ মনে করছে। অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। খোঁজা হচ্ছে খুনের অস্ত্রও।‌

জনপ্রিয়

Back To Top