সাগরিকা দত্ত চৌধুরি: ক্যান্সার ওঁদেরকে হার মানাতে শেখায়নি। মারণ কর্কট রোগের সঙ্গে লড়াই করে ওঁরা আজ জয়ী। স্তন ক্যান্সার শুনে গোড়ায় কিছুটা ভেঙে পড়লেও পরে নিজেদেরকে শক্ত করেন। রোগের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান কল্যাণী মিত্র, অনিন্দিতা কুণ্ডু, মহুয়া বসুর মতো আরও অনেকেই। পেশাগতভাবে এঁদের কেউ থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত, কেউ আইনজীবী, কেউ আবার শিক্ষিকা। অদম্য মনের জোরেই আজ, রবিবার গোলাপি বল নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ খেলবেন স্তন ক্যান্সার বিজয়িনীরা। সুন্দরবন, কল্যাণী, শ্যামনগর, বালি, উত্তরপাড়া, চন্দননগর, সল্টলেক, নিউ টাউন–‌সহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে ৩৬–৪০ জনের মতো অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা সকলেই মহিলা।
‘‌দিশা ফর ক্যান্সার’‌–এর উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারেও ক্যান্সার জয়ীদের নিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সহযোগিতায় রয়েছেন ক্রীড়া দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। আজ সকালে হাওড়ার ইছাপুরে এলআরএস বাংলা স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে শুরু হবে গোলাপি বল নিয়ে ক্রিকেট খেলা। যাঁরা ক্রিকেটে অংশ নেবেন না তাঁরা অন্যান্য খেলায় অংশ নিতে পারবেন। ক্রিকেট ছাড়াও হবে, জোরে হাঁটো (‌ফাস্ট ওয়াক)‌, যতটা আস্তে আস্তে সম্ভব দৌড়ানো (‌স্লো রেস)‌, দূর থেকে বালতিতে গোলাপি বল ছুড়ে ফেলা, লুঙ্গি ডান্স। একজন যে কোনও গান করবেন অন্যজন সেই গানের সঙ্গে গোলাপি লুঙ্গি নিয়ে নাচ করবেন। নাচ না জানলেও চলবে। মূলত শরীর কতটা ফিট তা দেখাতে হবে। প্রতিটা খেলার শেষে বিজয়ীদের পুরস্কারও দেওয়া হবে।
দিশা–র প্রতিষ্ঠাতা সচিব ডাঃ অগ্নিমিতা গিরি সরকার বলেন, ‘‌এবারে চতুর্থবার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন হচ্ছে। মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা অনেক সাহায্য করেছেন। তিনি জায়গাটি আমাদের দিয়েছেন। স্তন ক্যান্সারের সচেতনতা প্রসারের রং হল গোলাপি। সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা পিঙ্ক বল নিয়ে ম্যাচের এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়াও ৪ ফেব্রুয়ারি ‘‌বিশ্ব ক্যান্সার দিবস’‌ সেটি মাথায় রেখে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাইছি। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মূলত ক্যান্সার সারভাইভার এবং চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগীও থাকছেন। বিদেশে এধরনের উদ্যোগের প্রচলন আগেই হয়েছে।’‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top