মলয় সিনহা: প্রায়ই শোনা যায়, কোভিড রোগী বা সন্দেহভাজনদের উপেক্ষা করছে পাড়া, প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়স্বজন। আবার এক ছবি দেখা গেল শহরের বুকে। অসুস্থ এক বৃদ্ধ দু’‌দিন রাস্তায় পড়ে, এগিয়ে এল না কেউ। শেষ পর্যন্ত এক প্রত্যক্ষদর্শীর সহযোগিতায় খবর যায় করোনা–জয়ীদের সংগঠন কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের কাছে। রবিবার উত্তর কলকাতার শোভাবাজারে ফুটপাথে পড়ে–থাকা এক গৃহহীন কোভিড সন্দেহভাজন বৃদ্ধের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন করোনা–জয়ীদের সংগঠনের সদস্যরা। কিন্তু এই মহামারীকে হারাতে লড়াই শুধু সরকার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নয়, এই লড়াইয়ে এগিয়ে আসতে হবে সমাজের সব স্তরের মানুষজনকে। এমনই বার্তা দিল করোনা–জয়ীদের সংগঠন।
রবিবার ছুটির দিন স্থানীয়রা দেখতে পান, শোভাবাজার বাজারের পাশে–থাকা এসবিআইয়ের ফুটপাথে (‌রবীন্দ্র সরণি ক্রসি)‌ অসুস্থ এক বৃদ্ধ পড়ে রয়েছেন। তাঁর কাশি–জ্বর রয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘‌দীর্ঘ দিন বাড়ি থেকে বিতাড়িত ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধ এলাকার একটি ডেকরেটরের দোকানে কাজ করতেন। থাকতেন স্থানীয় একটি মন্দিরে। কিন্তু কাশি–জ্বর হওয়ায় তাঁকে মন্দির থেকে বের করে দেওয়া হয়।’‌ ওই এলাকা থেকেই কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের হেল্পলাইন নম্বরে (১৮০০৮৮৯১৮১৯‌)‌ ফোন আসে। এরপর খবর যায় কোভিড নেটওয়ার্কের কোর্ডিনেটর টিমের কাছে। মঞ্চের সম্পাদক সত্যরূপ সিদ্ধান্ত বলেন, ‘একজন অসুস্থ ব্যক্তি এইভাবে রাস্তায় পড়ে রয়েছেন, এটা মানা যায় না। ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় মঞ্চের সদস্য রূপশ্রী রায়কে। এরপর ড.‌ অভিজিৎ চৌধুরি, ড.‌ পার্থসারথি মুখার্জির সহযোগিতায় অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে এম আর বাঙুরে পাঠানো হয় বৃদ্ধকে।’ প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে মানুষের কী করণীয়?‌
সত্যরূপের কথায়, ‘২০ শতাংশ রোগীর হাসপাতালে ভর্তির দরকার হয়। চিকিৎসকদের লড়াই ওই ২০ শতাংশকে নিয়েই। বাকি ৮০ শতাংশকে নিয়ে সমাজ লড়ছে। ‌করোনার বিরুদ্ধে শুধু সরকার, এনজিও, চিকিৎসক–স্বাস্থ্যকর্মীরা লড়াই করবেন, এই ধারণা পাল্টানোর সময় এসেছে। আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলেই আমরা করোনার বিরুদ্ধে জিতব। আমাদের মঞ্চ এই বার্তাটাই গোটা সমাজের কাছে পৌঁছে দিতে চায়।’‌
শহরের পাশাপাশি বনগাঁ এলাকায় কাজ করছে কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্ক। বনগাঁর পাল্লা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার স্থানীয় সহমর্মী সংগঠনের সঙ্গে একযোগে করোনা নিয়ে সচেতনতার কাজ করছে করোনা–জয়ীদের মঞ্চ। ‘‌সহমর্মী’‌র তরফে তন্ময় চ্যাটার্জি জানালেন, ‘‌কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় পাল্লা এলাকায় মানুষজনকে সচেতন করার কাজ চলছে। আমাদের সঙ্গে রয়েছেন পাল্লা প্রাথমিক হাসপাতালের দুই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ১৭ জন ভলান্টিয়ার।’‌ তিনি আরও জানান, ‘‌সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও মাস্ক পরার গুরুত্ব বোঝানো হচ্ছে। স্যানিটাইজার বিতরণ করা হচ্ছে। পাল্লা প্রাথমিক হাসপাতালে দুই পরিবারের পাঁচ সদস্য এখন হোম আইসোলেশনে আছেন।’

জনপ্রিয়

Back To Top