গৌতম মণ্ডল, মৌসুনি: এক সময় ভিটেমাটি সবই ছিল। কিন্তু রাক্ষুসে চিনাই নদী আস্তে আস্তে সব গিলে ফেলেছে। কালের নিয়মে ভিটেমাটি তলিয়ে গেছে নদীর ঘোলা জলে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে নামখানা ব্লকের মৌসুনি দ্বীপের বালিয়াড়ার শেখ পরিবার। অগত্যা নদীর চরে বাঁশের মাচা তৈরি করে কোনওরকমে ঠাঁই নিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। 
বাঁশের তৈরি এই মাচাতেই এখন জীবনযাপন। ৭ জনের জন্য মাচাটা বড়ই ছোট। মাচার মধ্যে রান্নাবান্না ও গেরস্থালীর জিনিসপত্র। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় ওই মাচাতে। ওই বাঁশের মাচাটাই শেষ সম্বল পরিবারের। এভাবে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা কাটছে। কোটালের জেরে মাঝে মাঝে ডুবে যায় মাচা। তখন আশপাশের প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে জমিজিরেত। তাই সরকারি প্রকল্পে বাড়িও করে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের সরকারি প্রকল্পে বাড়ির আশ্বাস দিয়েছেন। এখন সেই আশ্বাসে ভর করে দিন কাটছে পরিবারের।
সত্তোরোর্ধ্ব আইয়ুব শেখ। এক সময় সুন্দরবনের এই বিছিন্ন দ্বীপে বিঘা কয়েক জমি ও বাড়ির মালিক ছিলেন। দিনমজুরি করে চলত তাঁর সংসার। কিন্তু ২০০৯ সালে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আয়লার সময় তছনছ হয়ে যায় মৌসুনি দ্বীপ। নদী ও সমুদ্রবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙনের জেরে এলাকার বড় অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। জমি কিনে বাড়ি করার মতো সামর্থ নেই। আইয়ুবের স্ত্রী লায়লা বিবি বলেন, ‘এককালে সব ছিল। নদী সব গিলে নিল। তারপর আর সামর্থ হয়নি বাড়ি করার। আইলার পর থেকে এভাবেই চলছে। আমফানে সব ভেঙেচুরে দিয়ে গেছে। ঘর গেরস্থালীর জিনিসপত্র সব ভেসে গেছে। সরকারি তার্পোলিনে কোনওরকমে আবার সারিয়ে নিয়েছি মাচাটা।‌’‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top