উদয় বসু: দাদার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তড়িঘড়ি টিকিট কেটে মুজফ্ফরপুর প্যাসেঞ্জারে উঠে পড়েছিলেন বিশ্বজিৎ বিশ্বাস (৩৫)। কিন্তু শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে কাঁকিনাড়া স্টেশনে দুষ্কৃতীদের বোমায় প্রাণ হারাতে হল তাঁকে।
বিহারের শিওহর থানা এলাকায় একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন চাঁদসি চিকিৎসক বিশ্বজিৎ। বাড়ি নদিয়া জেলার মাজদিয়া ভীমপুরে। নৈহাটি স্টেশনে নেমে রাত ৩টে ১৫ মিনিটের আপ কৃষ্ণনগর লোকাল ধরে ভীমপুরের বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল বিশ্বজিতের। সঙ্গে ছিলেন বন্ধু কেশবকুমার। শুক্রবার রাত ২টো ১৫ মিনিট নাগাদ শিয়ালদাগামী মুজফ্‌ফরপুর প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি নৈহাটি স্টেশনে ঢোকে। ঘুম না ভাঙায় তাঁরা নামতে পারেননি। স্টেশন ছাড়তেই তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। তাড়াতাড়ি উঠে পরের স্টেশন কাঁকিনাড়ার ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নেমে পড়েন। অপেক্ষা করতে থাকেন আপ কৃষ্ণনগর লোকালের জন্য। হঠাৎ জনমানবশূন্য ওই প্ল্যাটফর্মে দেখা যায় সশস্ত্র ৪ দুষ্কৃতীকে। তাদের দেখে একটি গুমটির পেছনে গা–ঢাকা দেন কেশব। দুষ্কৃতীরা বিশ্বজিতের ব্যাগ ধরে টানাটানি করতে থাকে। বিশ্বজিৎ বাধা দেন। তিনি রেললাইনে নেমে পালাতে থাকেন। সে সময় দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিশ্বজিতের। আহত হন কেশব।
ঘটনার সময় বিশ্বজিতের কাছে এক লক্ষের বেশি টাকা, সোনার চেন ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর আত্মীয়রা। দুষ্কৃতীরা শুধু লুঠের উদ্দেশ্য নিয়েই এসেছিল নাকি আক্রান্তদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সঙ্ঘাত ছিল, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।  কিছুদিন আগে দুষ্কৃতীরা কাঁকিনাড়া স্টেশনে ট্রেনের মধ্যে বোমা ছোঁড়ে। তার পর থেকে স্টেশনে পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। তা সত্ত্বেও একজন নিরীহ ট্রেনযাত্রীকে কেন দুষ্কৃতীদের হাতে প্রাণ দিতে হল তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
 

জনপ্রিয়

Back To Top