দীপঙ্কর নন্দী: প্রদেশ কংগ্রসের সভাপতি পদে সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যকে কি দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে?‌
এই মুহূর্তে রাজ্য রাজ্যনীতিতে এটাই অন্যতম আলোচনার বিষয়। শুক্রবার রাত পর্যন্ত যা খবর, প্রদীপবাবুর নাম অনেকটাই চূড়ান্ত। যদিও রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত বদল হতে বেশি সময় লাগে না। এই প্রসঙ্গে এদিন প্রদীপবাবু জানান, ‌এখনও কোনও কথা হয়নি। দল দায়িত্ব দিলে পালন করব।
বৃহস্পতিবারই সোমেন মিত্রের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য গুয়াহাটি থেকে রওনা হয়েও, কলকাতায় পৌঁছোতে পারেননি এআইসিসি–র সাধারণ সম্পাদক গৌরব গগৈ। বিমান দেরিতে ছেড়েছে। শুক্রবার সকালেই গৌরব কলকাতায় আসেন। সোজা যান লোয়ার রডন স্ট্রিটে সোমেনের বাড়িতে। সোমেনের স্ত্রী শিখা মিত্র ও ছেলে রোহন মিত্রকে সমবেদনা জানান। এরপর তিনি কলকাতায় একটি আলাদা জায়গায় প্রদীপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। দু’‌জনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কথা হয়। প্রদীপবাবু প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে একবার কাজও করেছেন। দল চালানোর অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। আগামী দিনে সংগঠনকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে দু’‌জনের মধ্যে কথা হয়েছে।
গৌরব গগৈ এদিন প্রদীপ ভট্টাচার্যকে বলেছেন, ‘‌সোমেন মিত্র সিপিএমের সঙ্গে জোট করার বিষয়ে খুবই আন্তরিক ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, এই জোট বিধানসভা পর্যন্ত চলুক। সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেস বিভিন্ন ইস্যুতে রাস্তায় নেমে মিটিং–মিছিলও করে।’‌ প্রদীপ গৌরবকে বলেন, ‘‌এই জোট আমাদের আরও শক্তিশালী করতে হবে।‌’‌ সোমেন মারা যাওয়ার পর সভাপতির পদ শূন্য হয়েছে। গৌরবকে প্রদীপ বলেন, ‘‌পদ বেশি দিন শূন্য থাকা ভাল নয়। দিল্লিতে গিয়ে আপনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন। সভাপতির নাম তাড়াতাড়ি ঘোষণা করা হলে কর্মীদের নিয়ে কাজে নামা যাবে। সংগঠন শক্তিশালী হবে।’‌ দু’‌জনের আলোচনায় ঠিক হয়, ব্লকে ব্লকে সোমেনের স্মরণসভা হবে। সোমেনবাবু যেভাবে কাজ করেছেন, তা কর্মীদের কাছে তুলে ধরতে হবে। প্রদীপ গৌরব গগৈকে বলেছেন, লকডাউনের মধ্যেও কংগ্রেসের আন্দোলনের রূপরেখা অন্যভাবে ঠিক করতে হবে। আলোচনায় ঠিক হয়েছে, কর্মীরা নিজেরা ২–৩ জন করে বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কংগ্রেসের কথা মানুষের সামনে তুলে ধরবেন। কোন ইস্যুতে আন্দোলন করছেন, প্ল্যাকার্ডে তা লিখে রাস্তার ধারে ৫–৬ জন মিলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান করতে পারেন।
এদিকে সভাপতি হচ্ছেন কি না জানতে চাওয়া হলে প্রদীপ বলেন, ‘‌এখনও পর্যন্ত আমি এ ব্যাপারে কথা বলিনি। আমার খুব একটা ইচ্ছে নেই। আমি কোনওদিনই উমেদারি করিনি। তবে দল দায়িত্ব দিলে পালন করব। আগেও রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি ছিলাম। লকডাউনের জন্য জেলায় যেতে পারছি না। তার আগে প্রতিদিন জেলায় যেতাম, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করতাম। এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। সকলে মিলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।’‌
একসময় প্রদেশ সভাপতি ছিলেন অধীর চৌধুরি। তাঁর আমলে জেলায় কর্মসূচি কমে যায়। এখন তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান। এই মুহূর্তে প্রদেশ কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা কম। আবদুল মান্নান বিরোধী দলনেতা। আর আছেন দেবপ্রসাদ রায় (‌মিঠু)‌, নেপাল মাহাতো, অসিত মিত্র, সুখবিলাস বর্মা, শঙ্কর মালাকার। কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী বেশ কয়েকজন বিধায়ক দল ছেড়ে তৃণমূলে। বিরোধী দলের সদস্যদের সংখ্যা ক্রমশই কমছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে দিল্লি কাকে বসাবে, সেটাই এখন দেখার।‌

জনপ্রিয়

Back To Top