আজকালের প্রতিবেদন: নৈহাটি পুরসভা তৃণমূলের দখলে এল। শনিবার বিজেপি–‌তে যোগ দেওয়া তৃণমূলের ১৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১০ জন কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দিলেন। নৈহাটি পুরসভার মোট আসন ৩১। ২৯ মে দিল্লিতে গিয়ে ১৮ জন কাউন্সিলর বিজেপি–‌তে যোগ দেন। আরও ৮ জন কাউন্সিলর তৃণমূলে ফিরে আসতে চান বলে কলকাতার মেয়র ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানিয়েছেন। তৃণমূল ভবনে ফিরে আসা কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও বিধায়ক পার্থ ভৌমিক। গাড়ুলিয়া পৌরসভার ২১ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১০ জন বিজেপি–‌তে চলে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২ জন ফিরে এলেন। এই মুহূর্তে গাড়ুলিয়াতে বিজেপি ১০, তৃণমূল ১০ ও ১ জন ফরওয়ার্ড ব্লক।
ফিরহাদ হাকিম এদিন জানান, ভয়–‌ভীতি দেখিয়ে এই কাউন্সিলরদের বিজেপি–‌তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মুকুলকেও কটাক্ষ করেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর ব্যারাকপুরে তৃণমূল পরিচালিত কয়েকটি পুরসভার কাউন্সিলর দল বদল করেন। সেই কাউন্সিলরদের বড় অংশই ফের পুরনো দলে ফিরে আসছেন। এই পুরসভাগুলি নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া। তিনি বলেন, ব্যারাকপুর লোকসভা আসনে বিজেপি জিতে সন্ত্রাস শুরু করে। নৈহাটি পুরসভা ভাঙচুর করা হয়। এমনকি হাসপাতালকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের আওতায় ছিল পুলিশ। তারপর থেকে রাজ্য প্রশাসনের হাতে চলে আসে পুলিশ। এরপরই সন্ত্রাস কমতে শুরু করে। অর্জুন সিং সাংসদ হওয়ার পর গোলমাল আরও বেড়ে যায়। যাঁরা বিজেপি–‌তে গিয়েছিলেন তাঁদের দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। তৃণমূলে ফিরে আসতে চেয়ে আবেদন করেন। তাঁরা বলেন, আমরা মমতার আদর্শ মেনে কাজ করতে চাই। এই কাউন্সিলররা বিজেপি–‌তে খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না।
শুধু কাউন্সিলররাই নন, এদিন বিজেপি–‌র যুবনেতা প্রদীপ চক্রবর্তী তৃণমূলে আসেন। সিপিএমের যুবনেতা প্রাঞ্জল গুহনিয়োগীও তৃণমূলে যোগ দেন। ফিরহাদ বলেন, আগামী বছর কলকাতা–‌সহ মেয়াদ শেষ হওয়া পুরসভাগুলিতে একইসঙ্গে নির্বাচন হবে। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্কে এদিন ফিরহাদ কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘‌দিল্লিতে ফাইভ স্টার হোটেলের মতো বিজেপি–‌র পার্টি অফিসে কাউন্সিলরদের নিয়ে যাওয়া হয়। ওরা জানত না, ওদের হৃদয়ে জোড়া ফুল। হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল পদ্মফুল। সেইসব ফেলে জোড়া ফুলেই এলেন। আমরা খুশি।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top