মিল্টন সেন
হুগলি, ৪ জুলাই

মাঠে খেলাধুলো বন্ধ হয়েছে আগেই। স্কুলে পড়েছে তালা। লকডাউন উঠলেও করোনা আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরোনো মানা। বাড়ি বসেই চলছে স্কুলের ক্লাস। আর তাতেই হচ্ছে খুদে পড়ুয়াদের চোখের সর্বনাশ।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের দিকে তাকিয়ে ক্লাস করে বাড়ছে চোখের সমস্যা। করোনা আতঙ্কে স্কুল বন্ধ। আর তাতে পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয় তাই অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে অধিকাংশ স্কুল। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার একমাত্র বিকল্প এই রাস্তায় এতদিনে প্রায় সকলেই সড়গড় হয়ে উঠেছে। কিন্তু ছোট ছোট পড়ুয়াদের মাথা যন্ত্রণা, চোখ জ্বালার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে এর প্রধান কারণ, একটানা কয়েকঘণ্টা মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় চোখ রাখা।
চুঁচুড়া রামমন্দিরের ঋতম ভারস স্থানীয় বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। অনলাইন ক্লাস চালু হওয়ার আগে সে মোবাইলে একটু–আধটু গেম খেলত। দিনে একাধিকবার মায়ের কাছে মোবাইলের বায়নাও করত। এখন সেই ছেলেই মোবাইল দূরে সরিয়ে রাখছে। অনলাইন ক্লাস করতে তার অসুবিধা হচ্ছে। কারণ, মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় চোখ রাখলেই চোখে, ঘাড়ে অসম্ভব যন্ত্রণা শুরু হচ্ছে তার। ডাক্তার দেখালে তিনি জানান, মোবাইল থেকে দূরে রাখতে হবে ঋতমকে। চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, টানা ২০ মিনিট মোবাইলে চোখ রাখার পরে দু–তিন মিনিটের জন্য চোখ সরিয়ে নিতে হবে। যত বড় পর্দা, ক্ষতি তত কম। মোবাইলের তুলনায় বেশি নিরাপদ ট্যাপ, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ। বার বার চোখে জলের ঝাপটা দিতে হবে। তাছাড়া বাড়িতে থাকায় ব্যাড পশ্চার বা এলোমেলোভাবে বসার অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা। তাই ঘাড়ে, কোমরে ব্যথা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

Back To Top