দীপঙ্কর নন্দী
পুজো উদ্বোধন করতে গিয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি করোনা নিয়ে সতর্ক করলেন। গত কয়েকদিন ধরে তিনি যে পুজোগুলির উদ্বোধন করেছেন, সেখানেই বলেছেন, ‘‌করোনা এখনও রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রতিমা দর্শন করবেন।’‌
শুক্রবার হিন্দুস্থান ক্লাবে প্রতিমা উদ্বোধন করতে গিয়ে মমতা ফোম দিয়ে মণ্ডপের সামনে একটি বড় বৃত্ত এঁকে দেন। উদ্যোক্তা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে বলেন, ‘‌এই বৃত্তের ওপরে সুন্দর করে রং দিয়ে দিও। এখানে দাঁড়িয়ে একজন একজন করে প্রতিমা দর্শন করবেন।’‌
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ৪১–‌‌এর পল্লী, অজেয় সংহতি, বড়িশা ক্লাব, বেহালা নতুন দল, খিদিরপুরের ৭৪ পল্লী, ২৫–এর পল্লী, হিন্দুস্থান ক্লাব ও কালীঘাটের বাড়ির সামনে, গলির মুখে কালীঘাট মিলন সঙ্ঘের প্রতিমা উদ্বোধন করেন। এখানে ছিলেন কার্তিক ব্যানার্জি, কাজরি ব্যানার্জি, অজিত ব্যানার্জি প্রমুখ। হিন্দুস্থান ক্লাবে চন্দ্রিমা ছাড়াও, তাঁর পুত্র সৌরভ বসু ও দেবাশিস কুমার হাজির ছিলেন। অধিকাংশ পুজো মণ্ডপে গিয়েই এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রদীপ জ্বালান, তারপর নিজের মোবাইলে ছবি তোলেন। ক্লাব সদস্যরা সুশৃঙ্খলভাবে দূর থেকে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিমা উদ্বোধন দেখেন। উদ্বোধনের আগে হাত স্যানিটাইজ করে নিয়েছেন। প্রদীপ জ্বালাবার পর দূর থেকেই ফুল নিবেদন করেন প্রতিমার উদ্দেশ্যে। উদ্বোধনের মধ্যে দিয়েই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, করোনা সম্পর্কে আরও সচেতন হতে হবে। মাস্ক না পরে মণ্ডপে ঢোকা যাবে না। উদ্বোধনের সময়ে ঢাকি ঢাক বাজিয়েছেন। তাঁর লেখা ও সুর দেওয়া গান মাইকে বেজেছে।
রাজ্যের সমস্ত জেলায় ভার্চুয়াল উদ্বোধন শেষ। শনিবার একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাব–‌সহ কয়েকটি পুজোর উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রতিটি মণ্ডপেই তিনি ৫ থেকে ৬ মিনিট করে থাকছেন। এবার কোনও বক্তব্য পেশ করছেন না। বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর উদ্বোধন। প্রতিমা ও মণ্ডপ দেখে তিনি শিল্পীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ক্লাব কর্মকর্তাদের বলেছেন ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের সঙ্গে আপনাদেরও সহযোগিতা করতে হবে। কোথাও ভিড় করা চলবে না। এবারের পরিস্থিতি একেবারেই অন্যরকম। সংযত থাকবেন। সাবধানতা অবলম্বন করে উৎসব করুন। সমস্ত ধর্মের মানুষকে এই উৎসবে শামিল করতে হবে।
‌করোনা পরিস্থিতির জন্য এবারই প্রথম, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নবান্নের সভাগৃহ থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জেলার পুজোর উদ্বোধন করেছেন। জেলার পুজোর উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। সেখানে সাবধান করেছেন,  ‘‌করোনা কিন্তু এখনও যায়নি। আপনারা সচেতন হয়ে উৎসব পালন করবেন। সব ধরনের মানুষকে উৎসবে শামিল করবেন। দুর্গাপুজো জাতীয় উৎসব। এমন কিছু করবেন না যাতে অন্যরা অসুস্থ হয়ে যায়। এই বিষয়ে ক্লাবগুলিকে বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে পুজোর উদ্বোধন করার পর প্রতিমা ও মণ্ডপের প্রশংসা করেছেন। শিল্পীদেরও প্রশংসা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্বোধনে জেলার পুজো উদ্যোক্তারা  খুশি।    ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top