সুনীল চন্দ, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে প্রহরারত বিএসএফ জওয়ানের রাইফেলের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেলেন বিএসএফের এক আধিকারিক ও এক জওয়ান। মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জের ভাটোলের মালদাখণ্ড বিওপি–র ধলগা উত্তরটোলার সীমান্ত সড়কে। নিহতের নাম ইনস্পেক্টর মহিন্দর সিং ভাট্টি (‌৫৭)‌ ও কনস্টেবল অনুজ কুমার (‌৩৩)‌। মহিন্দরের বাড়ি পাঞ্জাবের অমৃতসরে। অনুজ কুমার থাকেন বিহারের সাহরানপুরে। দু’‌জনেই কর্মরত ছিলেন বিএসএফের ১৪৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নে। 
ঘাতক কনস্টেবল জওয়ানের নাম উত্তম সূত্রধর। বাড়ি ত্রিপুরায়। ১৪৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নেই কর্মরত। গত রাতে মালদাখণ্ড বিএসএফ বিওপি–র এক কিলোমিটার দূরের একটি পোস্টে সীমান্ত পাহারার কাজে নিযুক্ত ছিল উত্তম। ভোররাতে সীমান্ত পরিদর্শনে যান মহিন্দর। সঙ্গী ছিলেন অনুজ কুমার। মহিন্দরের সঙ্গে উত্তেজিত কথা কাটাকাটির পরই নাকি প্রথমে নিজের স্বয়ংক্রিয় ইনসাস রাইফেল থেকে এবং পরে অনুজ কুমারের রাইফেল কেড়ে নিয়ে নির্বিচারে গুলি চালা‌য় উত্তম। 
একটি স্বয়ংক্রিয় ইনসাস রাইফেলে ২০ রাউন্ড গুলি থাকে। ঘটনায় মোট ৪০ রাউন্ড গুলি চলেছে বলে জানা গেছে। যদিও মহিন্দর সিং ভাট্টির কাছে কোনও অস্ত্র ছিল না। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোররাতে সীমান্তে মুহুর্মুহু গুলি চালনার শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। অনেকে গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বাইরে। এলাকার বাসিন্দা জ্যেঠা মুর্মু বলেন, ‘‌কম করেও ৪০–৫০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে মনে করেছিলাম‌।’‌ 
দুই জওয়ানের মৃত্যুর খবর জেনে ঘটনাস্থলে আসেন ১৪৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নের পাঞ্জিপাড়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডান্ট। তবে এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। ঘটনাস্থলে যান রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপা, ডিএসপি প্রসাদ প্রধান–‌সহ জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা। ঘটনাস্থলে যান রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামাও। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভিড় জমান বিজিবি–র জওয়ানরা। এদিকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে দুই সহকর্মীকে হত্যার পর ঘাতক জওয়ান এক কিলোমিটার পথ হেঁটেই পৌঁছয় মালদাখণ্ড বিএসএফ ক্যাম্পে। ক্যাম্প কর্তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে সে। 
উত্তম ও অনুজ কুমারের দু’‌টি ইনসাস রাইফেল–‌সহ ৩টি সাইকেল উদ্ধার করেছে বিএসএফ। উত্তম সূত্রধরকে তুলে দেওয়া হয়েছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশের হাতে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। 
হত্যার ঘটনা নিয়ে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে বিএসএফ এবং রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। প্রশ্ন উঠেছে নিহত ইনস্পেক্টর মহিন্দর সিং ভাট্টির অস্ত্র ছাড়াই সীমান্ত পরিদর্শনে যাওয়া নিয়ে। এদিকে, রায়গঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘অভিযুক্ত নিজেই আত্মসমর্পণ করেছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’‌ তবে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকেই উত্তম এই কাণ্ড ঘটায় বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।

জনপ্রিয়

Back To Top