গৌতম চক্রবর্তী
সুন্দরবন, ৪ জুলাই‌

আবার বাঘে তুলে নিয়ে গেল এক মৎস্যজীবীকে। একের পর এক সুন্দরবনের জঙ্গলে এই ঘটনা ঘটে চলেছে। আর তাতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ বনকর্মী থেকে সুন্দরবনের মানুষের। হিসাবে পাওয়া যাচ্ছে লকডাউন এবং আমফান ঝড়ের পরে সুন্দরবনে গত এক মাসের ব্যবধানে নদীতে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের মুখে পড়েছেন ৪ মৎস্যজীবী। বাঘের কবলে পড়ার সংখ্যাটি বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সুন্দরবনবাসীরা। শুক্রবারও সুন্দরবনের পঞ্চমুখানি দু’নম্বর জঙ্গলে কাঁকড়ার সন্ধানে গিয়ে বাঘের মুখে পড়েন এক মৎস্যজীবী। তিনি নিখোঁজ। বনকর্মীরা এখনও তাঁর কোনও সন্ধান পাননি। ওই নিখোঁজ মৎস্যজীবীর নাম যামিনী মিস্ত্রি (৫০)। ছেলে–সহ আরও দুই সঙ্গীর সঙ্গে তিনি শুক্রবার সকালে গোসাবার লাহিড়ীপুর গ্রাম থেকে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে রওনা দিয়েছিলেন পঞ্চমুখানি জঙ্গলে। সেখানেই বিকেল তিনটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। ছেলের সামনেই বাঘ মুখে করে নিয়ে যায় তঁাকে। বাঘকে বাধা দিতে পারেননি তাঁর ছেলে ও সঙ্গীরা। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যেতেন তিনি। তবে এবার এমনটা হবে ভাবতে পারেননি কেউ। জঙ্গলের ধারে কাঁকড়া ধরতে নামতেই তাঁর ওপর ঝাপিয়ে পড়ে বাঘ। গত ৫ জুন গোসাবার সাতজেলিয়ার বাসিন্দা উদয় মণ্ডল কাঁকড়া ধরতে ভাইজোড়া খালের ধারে যেতেই তাঁকেও মুখে করে জঙ্গলে নিয়ে যায় বাঘ। গত ১৩ জুন কুলতলির দেউলবাড়ির বাসিন্দা গোষ্ঠ নাইয়া চিতুরি জঙ্গলের ধারে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান। তবে তাঁকে বাঘের মুখ থেকে ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলেন তাঁর সঙ্গীরা। আর এমনই গত ২০ জুন সুন্দরবনে আমফান ঝড়ের এক মাস পূর্তিতে সকালেই লাহিড়ীপুরের জেমসপুরের মনোহর মণ্ডলও তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে পীরখালি জঙ্গলের খাঁড়িতে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের পেটে যান। তবে তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলেন। শেষ রক্ষা হয়নি। যদিও বন দপ্তরের কর্মীদের দাবি, বিনা অনুমতিতেই সুন্দরবনের কোর এলাকায় কাঁকড়া ও মাছ ধরতে যাওয়ার ফলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top