বিভাস ভট্টাচার্য
করোনা পরিস্থিতিতে ধাক্কা লেগেছে সবকিছুতেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বন্ধ রাখতে হয়েছে আমোদ–‌প্রমোদের অনেক মাধ্যম। যার মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য দিক হল সার্কাস। টিকিট কেটে শিশুদের সঙ্গে সার্কাস দেখতে হাজির হন বয়স্করাও। শীতকালেই মূলত যার আসর বসে। কিন্তু এবছর সেটা সম্ভব হবে কি না তা জোর দিয়ে বলা এখনই সম্ভব নয়। যার ফলে বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের সঙ্গে সার্কাস শিল্পীদের জীবনেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সার্কাস সংস্থা রাম্বো সার্কাস আয়োজন করতে চলেছে অনলাইন শোয়ের। নাম, ‘‌লাইফ ইজ এ সার্কাস’‌। যা দেখতে হবে টিকিট কেটে। এর থেকে প্রাপ্ত অর্থ তুলে দেওয়া হবে সার্কাস শিল্পীদের হাতে। যাতে পরিবার নিয়ে এই সময় তাঁরা লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারেন। একই সঙ্গে কী কারণে এই অনলাইন শো'য়ের আয়োজন করা হল সেসম্পর্কেও বার্তা দেওয়া যাবে। এ বিষয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে স্বরাধর অ্যান্ড বুকএস্মাইল, লক্ষ্য মিডিয়া গ্রুপ এবং ম্যাভকম গ্রুপ। 
শহর থেকে গ্রাম, সব জায়গা থেকেই দেখা যাবে এই শো। হাড় হিম করা ট্র্যাপিজের খেলা থেকে জিমন্যাস্টিকের নানা কসরত, সব কিছুই হাজির থাকবে এই প্রদর্শনীতে। টিকিটের জন্য ‘‌বুকমাইশো’‌–‌তে বা আর্থিক সহায়তার জন্য https://securepayments.payu.in/bmsdonate4-এ ক্লিক করতে হবে। বুকএস্মাইলের মাধ্যমে আসা এই অর্থ স্বরাধর তুলে দেবে রাম্বো সার্কাসের হাতে। 
শো চলার সময় একদিকে যেমন সার্কাস সম্পর্কে নানা বিষয়ের বর্ণনা থাকবে তেমনি তুলে ধরা হবে এই সার্কাসের দীর্ঘ পথচলার কাহিনি। কুশলীরা তাঁদের কলার মাধ্যমেই শ্রদ্ধা জানাবেন করোনা যোদ্ধাদের প্রতি। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২৬ জানুয়ারি পিটি দিলীপ এই সার্কাসের প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের নানা প্রান্তে শো করা ছাড়াও ২০১১–‌তে মন্টে কার্লোতে বিশ্ব সার্কাস দিবস পালন অনুষ্ঠানে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছে তারা। 
এ বিষয়ে রাম্বো সার্কাসের মালিক সুজিত দিলীপ জানিয়েছেন, গত কয়েক দশক আগেও সার্কাস ছিল শিশু ও গোটা পরিবারের কাছে একটা বড় বিনোদন। আশি বা নব্বই দশকে যাঁরা জন্মেছেন তাঁদের এসম্পর্কে একটা পুরনো অনুভূতি আছে। এই মুহূর্তে যেহেতু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে সেকারণে অনলাইনে সার্কাস শো'য়ের আয়োজন করা হচ্ছে। ডিজিটাল এই ব্যবস্থায় একদিকে যেমন সেই পুরনো দৃশ্য আবার হাজির হবে তেমনি এই কলাকেও সম্মান জানানো হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top