বিজয়প্রকাশ দাস
বর্ধমান, ১৮ সেপ্টেম্বর

মুক্তিপণের টাকা পাবে না ভেবেই অপহৃত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের নাবালক ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন করল দুষ্কৃতীরা। মৃত কিশোরের নাম সন্দীপ দলুই (৯)। মোবাইলের সূত্র ধরে ও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অপহরণ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অপহৃতদের গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু অপহরণ করার পর মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে খুন করে দেওয়া হয়েছে। তাই জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যায়নি। শুক্রবার সকালে ক্যানেল থেকে হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জন সুব্রত মাজি, জয়ন্ত বাগ ও মঙ্গলদীপ দলুইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গলসির সাঁকো গ্রামের এই নারকীয় ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনা জানাজানি হতেই অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর করেন গ্রামবাসীরা।
জানা গেছে, সাঁকো গ্রামের বাসিন্দা পঞ্চায়েত সদস্য বুদ্ধদেব দলুইয়ের ৯ বছরের পুত্র সন্দীপকে বুধবার সন্ধ্যায় অপহরণ করা হয়। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সন্দীপ ওই দিন সন্ধেয় গ্রামের মনসা পুজো দেখতে একাই বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর রাত আটটা নাগাদ বুদ্ধদেববাবুর মোবাইলে তাঁর ছোট ছেলে সন্দীপকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ফোন আসে। অপহরণকারীরা প্রথমে ৭ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে। এরপর দফায় দফায় টাকার কথা বলা হয়। আর তা না হলে গুলি করে তাঁর ছেলেকে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। এবং বিষয়টি পুলিশকে যেন জানানো না হয়, সে ব্যাপারেও সতর্ক করে দেয় তারা। দফায় দফায় ফোনে সাত লক্ষ টাকা থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণের দাবি এসে দাঁড়ায়। তবে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে ৩০ হাজার টাকার বেশি নেই বলে জানানো হয়।
জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখার্জি জানান, অভিযুক্তরা প্রফেশনাল গ্যাং ছিল না বলে অপহরণের ক্ষেত্রে তারা কিছু প্রমাণ রেখে দেয়। টেকনিক্যাল কিছু ভুল করেছে এই ক্রাইমের ক্ষেত্রে। ফলে সহজেই ট্র‌্যাক করা গেছে। তাছাড়া আমরা ভেবেছিলাম বাচ্চাটাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারব। আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি রাত ৮টার সময় কিডন্যাপ করে রাত সাড়ে ১০টার মধ্যেই খুন করে দেয় কিশোরটিকে। তাই তাড়াতাড়ি খুন করে দেওয়ার জন্যই জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গেল না। ওইদিন ধৃতরা মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং মুক্তিপণের টাকা পাবে না ভেবেই খুন করে দেয় কিশোরটিকে। তিনজনকেই এদিন বর্ধমান আদালতে পেশ করে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top