নীলাঞ্জনা সান্যাল
অতিমারীর কারণে আগামী বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা কবে হবে তা এখনও বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এই অবস্থায় এই দুটি পরীক্ষার সিলেবাসের বোঝা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমানোয় স্বস্তিতে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকরা। পরীক্ষা যখনই হোক না কেন, কতটা কী পড়তে হবে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা তাদের মতো করে প্রস্তুতি নিতে পারবে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। বিশেষ করে ছাত্র জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা, মাধ্যমিকের সিলেবাস যেভাবে কমানো হয়েছে তাতে, এই করোনা পরিস্থিতিতে, কার্যত কোনও ক্লাসই যেখানে হয়নি সেখানে অনেকটাই কম সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে পারবে তারা। তবে সিলেবাস কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও দুটি পরীক্ষার নানা বিষয়ে সিলেবাসের বাদ পড়া অংশ নিয়ে পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছে শিক্ষকদের একাংশ।
মার্চের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ স্কুল। কবে খুলবে এখনও স্পষ্ট নয়। এই অবস্থায় মাধ্যমিকের সিলেবাস যে পদ্ধতিতে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে তাতে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে বলে মনে করছে শিক্ষকদের একাংশ। কারণ স্কুল যখন বন্ধ হয় তখন প্রথম সামেটিভের সিলেবাস প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় সামেটিভের সিলেবাসের কিছুটা লকডাউনের সময় অনলাইন, টেলিভিশন, বাংলার শিক্ষা পোর্টালের মাধ্যমে পড়ানো হয়েছে। তৃতীয় সামেটিভের সিলেবাস নিয়েই চিন্তা ছিল। কিন্তু শিক্ষকদের বক্তব্য, মাধ্যমিকের সিলেবাস থেকে যে অংশগুলি বাদ দেওয়া হয়েছে তার প্রায় অধিকাংশই তৃতীয় সামেটিভের সিলেবাস। ফলে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধে হবে। তাছাড়া দু–একদিনের মধ্যেই প্রশ্নের বিন্যাস কী হবে তা জানাবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। তবে শিক্ষকদের একাংশের দাবি, বিভিন্ন বিষয়ে এমন এক বা একাধিক অধ্যায় ও টপিক বাদ দেওয়া হয়েছে, যা আসলে পরবর্তী স্তরের উচ্চশিক্ষায় ভীষণই অপরিহার্য। এঁদের বক্তব্য, মাধ্যমিকের ভৌতবিজ্ঞানে জৈব রসায়ন, ধাতুবিদ্যা ও অজৈব রসায়নের বাদ দেওয়া কিছু অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবন বিজ্ঞানে অভিব্যক্তি ও অভিযোজন এবং পরিবেশ অধ্যায় শিক্ষার্থীর সার্বিক বেড়ে ওঠার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। এই অংশটি আর শেখার সুযোগ থাকছে না। ইতিহাসের ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অষ্টম অধ্যায়গুলির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ রেখে, অন্য অধ্যায় থেকে কিছু কিছু করে অংশ বাদ দিলে ভাল হত। সামগ্রিকভাবে ইতিহাস সম্পর্কে ও বিংশ শতকের বিভিন্ন আন্দোলন সম্পর্কে পড়ুয়াদের জানা দরকার। প্রাকৃতিক ভূগোলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ গিয়েছে। আঞ্চলিক ভূগোলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রশ্নের চাপ পড়ায় সামগ্রিকভাবে প্রাকৃতিক ও আঞ্চলিক ভূগোলের প্রশ্নের সমতা থাকা দরকার। গণিতে ত্রিকোণমিতি অংশ থাকা উচিত, যাতে আগামী দিনে উচ্চমাধ্যমিকে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা হয়।
উচ্চমাধ্যমিকে গণিতে ভেক্টর বাদ গিয়েছে। কিন্তু ভেক্টরের ওপর গণিত এবং পদার্থবিদ্যার অনেক ‘‌প্রবলেম সলভ’‌ করা হয়। পদার্থবিদ্যায় ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ওয়েভ গুরুত্বপূর্ণ। সর্বভারতীয় পরীক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীববিদ্যায় বায়োটেকনোলজি বিষয়গুলি থাকা প্রয়োজন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারি স্কুল শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, ‘এবার টেস্ট পরীক্ষা হবে না। তাই পরীক্ষা পরবর্তী টেস্ট পেপার থেকে অভ্যাসের কোনও সুযোগ পড়ুয়ারা পাচ্ছে না। ফলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশ্নের ব্লুপ্রিন্ট সামনে রেখে, কিছু মডেল প্রশ্নপত্র মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি।’ পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নবকুমার কর্মকার জানান, মাধ্যমিকে ভূগোল ও জীবন বিজ্ঞানে যথাক্রমে ৫০ ও ৪৫ শতাংশ করে সিলেবাস কাটছাঁট করা হয়েছে।  প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রীদাম চন্দ্র জানা বলেন, দেরিতে হলেও সিলেবাস কমানোর সিদ্ধান্ত সকলের কাছে স্বস্তির। আমরা চাই, কমপক্ষে তিন মাস ক্লাস হোক। দ্বাদশ শ্রেণির প্র্যাকটিক‍্যাল ক্লাস হোক।

‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top