মিল্টন সেন
হুগলি, ১০ জুলাই

করোনার জেরে অভাবের তাড়নায় ময়দান ছেড়ে ফুটপাথে সবজি বিক্রিতে মোহনবাগানের ছোটদের দলের স্টপার। শুক্রবার কোন্নগরে রাস্তার পাশে সবজি নিয়ে বসতে দেখা গিয়েছিল বাঞ্ছারামপুরের দীপ বাগকে। রাজ্য ক্রীড়া সংস্থার তরফে অবশ্য তাকে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শনিবার তার বাড়িতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পাশাপাশি আরও সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা মানস রায়। বলেছেন, দীপ চাইলে ইস্টবেঙ্গলের জিম–সহ পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারে।
রিকশাচালকের একমাত্র ছেলে দীপ অক্লান্ত পরিশ্রম আর প্রতিভার জোরে জায়গা পেয়েছিল দুর্গাপুরের মোহনবাগান অ্যাকাডেমিতে। এতদিন অ্যাকাডেমি থেকে মাসে ১,০০০ টাকা ভাতাও মিলছিল। করোনার দাপটে লকডাউনে অন্ধকার নেমে আসে দীপের জীবনে। লকডাউনের জেরে অনেক আগেই বন্ধ হয়েছে অ্যাকাডেমি। ফলে প্র্যাকটিসও বন্ধ। বন্ধ ভাতার টাকাও। ওপরে ওঠার ইচ্ছে থাকলেও আর উপায় নেই। তাই একটুকরো প্লাস্টিক পেতে সবজি বিক্রি করে কোনওরকমে সংসার চালাচ্ছে সে। 
তবে এখনও ফুটবল–‌প্রীতিতে বিন্দুমাত্র ঘাটতি হয়নি। প্রতিদিন সকালে সবজি আনতে পাইকারি বাজারে যাওয়ার আগে আজও ফুটবল অনুশীলন করে সে। দীপ আশাবাদী, একদিন সব স্বাভাবিক হবে। তখন আবার সে ফিরে যাবে ফুটবল মাঠে। হুগলি জেলা স্পোর্টস ফেডারেশনের ‌সভাপতি প্রাক্তন ফুটবলার তনুময় বসু ঘটনাটা শুনে বললেন, ‘‌খুবই দুঃখজনক। বিষয়টা জানা ছিল না। যথাযথ সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে।’‌ বিষয়টি নিয়ে মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গেও কথা বলবেন তনুময়।

জনপ্রিয়

Back To Top