গৌতম চক্রবর্তী, ক্যানিং: বিষধর কেউটে সাপের কামড় খেয়েও, সেই সাপটিকে হাতে তুলে নেন ক্যানিংয়ের তালদির শামিম মিস্ত্রি। সাপটি ফের তঁার হাতে ছোবল মারে। তাতেও ভয় পাননি শামিম। সাপকে হাতে ধরেই পকেট থেকে মোবাইল বের করে বাড়িতে ফোন করেন। পরিবারের লোকজনকে সাপে কামড়ানোর খবর দেন। তার পর ওই সাপটিকে মেরে ফেলেন। ততক্ষণে সাপের বিষ কাজ করতে শুরু করেছে শরীরে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি জমির আলে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন রাতেই ঘটনাস্থলে এসে তঁাকে উদ্ধার করে ক্যানিং হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।
দু’‌বার বিষধর সাপটির কামড় খেয়ে অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছিলেন শামিম। রাতে হাসপাতালেই তঁার মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে ক্যানিংয়ের তালদির ঘটনা। রবিবার পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠায়। এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, শনিবার রাতে হাসপাতালে শামিম ছাড়াও চম্পাহাটির বাসিন্দা এক মহিলা এবং ক্যানিংয়ের আরও এক ব্যক্তিকে সাপে কামড়ায়। হাসপাতালে তঁাদের চিকিৎসা চলছে। শামিমকে যে কেউটে সাপ কামড়েছিল, তার বিষক্রিয়া ভয়ঙ্কর ছিল। তাই তঁাকে বাঁচানো যায়নি।‌‌
স্থানীয় মানুষ জানান, ক্যানিং হাসপাতালে প্রতিদিনই সাপে কামড়ানো রোগীরা আসেন। তবে বেশিরভাগ রোগীই সাপে কামড়ানোর পর ভয় পেয়ে যান। কিন্তু এই রোগী ভয় না পেয়ে সাপটিকে ধরে বাড়িতে ফোন করে সে কথা জানিয়েছেন। এমন ঘটনা বিরল। তবে বঁাচানো গেল না এটাই দুঃখের। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ওই রোগীকে সাপ দু’‌বার কামড়ানোয় তঁার দেহে সাপের বিষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। তাই প্রতিষেধক কাজ করেনি। ফলে তঁাকে বঁাচানো যায়নি। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। ফলে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা  হাসপাতালে বাড়ছে। সাপে কামড়ালেও সময় মতো হাসপাতালে আনলে অনেকেই বেঁচে যান। তবে বহু মানুষের মনে এখনও কুসংষ্কার রয়েছে। তাই সাপে কামড়ানো রোগীকে ওঝা বা গুনিনের কাছে নিয়ে গিয়ে অনেকে সময় নষ্ট করেন। ফলে সেইসব রোগীকে বঁাচানো সম্ভব হয় না।

জনপ্রিয়

Back To Top