‌অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়, সিউড়ি: পুজোর থিম হিসেবে এবার উঠে এল মশানজোড় বঁাধ। সিউড়ির সেচ কলোনির পুজো মণ্ডপে এবার দেখা যাবে মশানজোড়ের ময়ূরাক্ষী নদীর বঁাধ। আর তাই এই পুজোমণ্ডপ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে স্থানীয় মানুষের মধ্যে।
ছয় দশক আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্মাণ করা এই নদীবঁাধটি নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক দেখা দেয়। সিউড়ি থেকে ৩৮ কিমি দূরে মশানজোড়ের অবস্থান প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের মধ্যে। কিন্তু এখানে ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর কানাডা সরকারের আর্থিক সহায়তায় তৈরি কানাডা বঁাধটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। চুক্তিমতো এই নদীবঁাধ প্রকল্পের বিশাল এলাকার মালিকও পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সম্প্রতি এই বঁাধে নীল রং করা ও তোরণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নাম ও বিশ্ব বাংলার লোগো লাগানোর প্রতিবাদ করে রংয়ের কাজ বন্ধ করে দেয় দুমকার বিজেপি। তোরণে পশ্চিমবঙ্গের নাম ও লোগো খুলে ফেলে ঝাড়খণ্ডের নাম ও লোগো লাগিয়ে দেয় ঝাড়খণ্ডের শাসক দল। ঝাড়খণ্ডের সমাজ কল্যাণমন্ত্রী তথা দুমকার বিজেপি বিধায়ক লুইস মারান্ডি মশানজোড়ে এসে কার্যত পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করে হুমকি দিয়ে বলে যান, ‘‌মশানজোড়ের দিকে কেউ তাকালে তার চোখ তুলে ফেলা হবে!’‌
এ নিয়ে বীরভূম ও দুমকা জেলা প্রশাসনের মধ্যে বৈঠকের পরেও সমস্যার জট এখনও কাটেনি। এই বিতর্কের মাঝেই আসন্ন দুর্গাপূজোর থিম হিসেবে উঠে এল মশানজোড় বঁাধ। তাও আবার খোদ সিউড়িতে ময়ূরাক্ষী সেচ কলোনির পুজোমণ্ডপে। ২৬ বছরের এই পুজোর আয়োজক ‘‌সিউড়ি ইরিগেশন কলোনি রিক্রিয়েশন ক্লাব’‌। এই পুজো কমিটির সম্পাদক পরিতোষ সিকদার জানান, মূলত কলোনির আবাসিকদের চঁাদাতেই এই পুজো হয়। এবার পুজোর প্রস্তুতি সভায় ময়ূরাক্ষী ক্যানেল বিভাগের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার–সহ সকলেই উপস্থিত ছিলেন। পুজো কমিটির সম্পাদক জানান, মশানজোড় বঁাধ নিয়ে পুজোর থিম করার ভাবনা তঁার মাথা থেকেই এসেছে। মণ্ডপের কাজ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। সঁাইথিয়ার মণ্ডপ শিল্পী হীরা গুপ্ত–র নেতৃত্বে ১০ জনের দল দিনরাত কাজ করছেন। মণ্ডপে মশানজোড় বঁাধের ২১টি কপাট (‌গেট)–সহ সমগ্র বঁাধ ও জল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি দেখানো হবে। বাজেট প্রায় ৩ লক্ষ।

জনপ্রিয়

Back To Top