‌যজ্ঞেশ্বর জানা,তমলুক: জনসমুদ্রে ভেসে মনোনয়ন পেশ করলেন কঁাথি ও তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের দুই তৃণমূল প্রার্থী শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারী। পিতাপুত্র দু’‌জনেই হেভিওয়েট প্রার্থী। তঁাদের মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে জমজমাট ছিল তমলুক শহর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সংগঠিত হয় মহামিছিল। মিছিলে মন্ত্রীর সঙ্গে পা মেলান দিব্যেন্দুও। নানা রকম বাদ্যযন্ত্রের সুরে, স্লোগানে, রণপায় সুসজ্জিত মিছিল শুরু হয় রাজময়দান থেকে। মিছিল শেষ হয় জেলাশাসকের দপ্তরে। মিছিল দেখার জন্য রাস্তার দু’‌পাশে মানুষের ভিড় ছিল নজরকাড়া। 
শুভেন্দু এবং দিব্যেন্দুকে ফুল ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানান সাধারণ মানুষ। মিছিলে হঁাটার পথেই বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু। মিছিল শেষে শিশির অধিকারী এবং দিব্যেন্দু অধিকারী দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জেলাশাসক পার্থ ঘোষের কাছে মনোনয়ন দাখিল করেন। মনোনয়নের মিছিলে মানুষের স্বতস্ফূর্ততা দেখে জয়ের মেজাজে ভিকট্রি সাইন দেখিয়ে নিজেদের খুশি ব্যক্ত করেন দুই প্রার্থী। শিশিরবাবু বলেন, ‘‌আমরা সারা বছর মানুষের সঙ্গে থেকে সমস্ত ধরনের কাজ করি। আমাদের নীতিই হল মানুষের জন্য কাজ করা। কাজের কোনও শেষ নেই। প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন কাজ করার পরিকল্পনা হচ্ছে। মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’‌ বিরোধীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌প্রতিপক্ষ সব কোলাঘাটের ওই পাশে। গতবার সব লাল জামা হলুদ হয়ে গিয়েছিল। এবার কী অবস্থা হবে, আরও পরে বলতে পারব।’‌
কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রসঙ্গে বলেন, ‘‌এর আগেও কেন্দ্র বাহিনী এসেছে। মীরা পাণ্ডে বঁাদর নাচন নেচেছিলেন। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আমাদের জেলার ফলাফল আটকে রাখা হয়েছিল। লাভ কিছুই হয়নি। কারণ, মানুষ আমাদের পাশে রয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত একটাও রিপোল করতে পারেনি। এই জেলায় গণতান্ত্রিকভাবে ভোট হয়। সাধারণ মানুষ উৎসবের মেজাজে ভোট দেন।’‌ স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে লক্ষ্মণ শেঠের নাম। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌এটা তো বিরাট খবর। সাংঘাতিক খবর। এবার সরবত নয়, পঁাক গুলিয়ে সরবত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে তঁাকে।’‌
দিব্যেন্দু বলেন, ‘‌আমি গত ২ বছরে তমলুকের জন্য প্রচুর কাজ করেছি। এখানকার মানুষ সব জানেন। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুবিধাও তঁারা পাচ্ছেন। তাই আমি মনে করি, গত উপনির্বাচনে আমি যত ভোটে জয়ী হয়েছিলাম, এবার তার চেয়েও বেশি ভোটে জয়ী হব। বিরোধীদের কাউকে মাঠে ময়দানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’‌ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে হতে পারেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‌আমি জ্যোতিষ নই। ভোটের ফলাফল প্রকাশ হলে বোঝা যাবে। রাজ্যের শান্তি–উন্নয়ন নিয়ে প্রচার করার পাশাপাশি কেন্দ্রের ব্যভিচারী সরকারের কার্যকলাপ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। তবে, মানুষ সব বোঝেন। আমার বিশ্বাস, তঁারাই ঠিক করবেন, কে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন, আর কাকে আরও পিছনে ফেলে রাখবেন!‌’‌

জনপ্রিয়

Back To Top