আজকালের প্রতিবেদন: বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায়কে দলবিরোধী কাজ ও দলকে হেয় করার অভিযোগে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। শুক্রবার তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি সাংবাদিক বৈঠক করে দলের এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। শুভ্রাংশু বীজপুরের বিধায়ক। 
এদিন অত্যন্ত ইঙ্গিতবহ সাংবাদিক সম্মেলন করেন শুভ্রাংশু। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে ভোটের ফল। তার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে সর্বাগ্রে নিজের ‘হার’ স্বীকার করলেন মুকুল-পুত্র। তার পরে জানালেন, ভবিষ্যতে যা করবেন, বাবার সঙ্গে কথা বলেই করবেন। আর শেষে বললেন, ‘আমার বাবাকে নিয়ে আমি গর্বিত।’ মুকুল রায় একাই তৃণমূলকে তছনছ করে দিয়েছেন বলেও এদিন মন্তব্য করেছেন বীজপুরের বিধায়ক। পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন এ–‌ও বলেন, ‘‌শুভ্রাংশু দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। ক্রমাগত দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এমন সব মন্তব্য করেছেন, যা দলকে হেয় করেছে। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুমতি নিয়েই তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দলের শৃঙ্খলা প্রত্যেককে মানতে হবে।’‌  
ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীকে জেতানোর জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবেন বলে জানিয়েছিলেন শুভ্রাংশু। তাঁর বাবা মুকুল রায় যখন অর্জুন সিংহের জন্য ঘুঁটি সাজাতে ব্যস্ত, তখন শুভ্রাংশু জানিয়েছিলেন, দীনেশ ত্রিবেদীকে তিনি সবচেয়ে বেশি লিড পাইয়ে দেবেন নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র বীজপুর থেকেই। ফলাফল যে প্রায় উল্টো হয়েছে, তা অর্জুনের কাছে দীনেশের পরাজয়েই স্পষ্ট হয়ে গেল এবং তার পরেই মিডিয়ার সামনে মুখ খুললেন মুকুল-পুত্র।
‘আমি বলেছিলাম, বীজপুর থেকে দীনেশদাকে সবচেয়ে বেশি লিড দেব। কিন্তু আমি পারিনি। আমি বীজপুরের ভূমিপুত্র। কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছিলাম যে, আমি একাই এখানকার ভূমিপুত্র নই, আমার বাবা মুকুল রায়ও বীজপুরের ভূমিপুত্র।’ সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন এই মন্তব্যই করেছেন তৃণমূল বিধায়ক। তিনি বলেছেন, ‘কাউকে দোষারোপের ব্যাপার নেই, অভিমান নেই, রাগ নেই। আমার বাবার কাছে আমি হেরে গেছি। ভবিষ্যতে কী করব, সে বিষয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেব।
আমার বাবা মুকুল রায় দল ছাড়ার পরে অনেকে বলেছিলেন, লক্ষ লক্ষ মুকুল রায় তৈরি করবেন। নাম না করে মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে এ দিন জোরদার খোঁচা দিয়েছেন শুভ্রাংশু। তিনি বলেন, ‘যাঁকে কাঁচরাপাড়ার 
কাঁচা ছেলে বলা হয়েছিল, তিনিই নিজের ‘কাঁচা’ মাথাটা দিয়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গটাকে চাণক্যের মতো চষে দিলেন।’
এদিন শুভ্রাংশু বলেন, ‘যাঁকে আমি মমতাময়ী মা ভাবি, নেত্রী ভাবি, তিনিও আমাকে বললেন গদ্দারের ছেলে। আমি জানি না, বাংলা সংস্কৃতিতে এই গদ্দারের ছেলে কতটা মানানসই! আমার কাছে সব কিছুই একটা প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’ লোকসভা নির্বাচন ঘোষিত হওয়ার পরেও তিনি দলীয় প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীর হয়ে কাজ করার কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন। কিন্তু প্রচার চলাকালীনই তাঁর অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হতে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়ে। তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে বিশ্বাস করছেন না এবং এই ভাবে দলে থাকা কঠিন— মূলত এইরকমই বার্তা ছিল শুভ্রাংশুর করা পোস্টটির। ফলে, জল্পনা বাড়তে শুরু করেছিল ব্যারাকপুরে ভোট হওয়ার আগেই। এবার সেই জল্পনার আগুনে শুভ্রাংশু নিজেই অক্সিজেন জোগালেন। বাবা মুকুল রায়ের ভূয়সী প্রশংসা তো করলেনই, তার পাশাপাশি বললেন, ‘আমি দল এখন ছাড়ছি না। কিন্তু দল কি আমাকে বিশ্বাস করে? আমি জানি না।’‌‌ এদিন বিজেপির রাজ্য নেতারা বলেন, ‘‌শুভ্রাংশু এখন মুক্ত বিহঙ্গ। এখন তাঁর বিজেপিতে যোগ দিতে আর বাধা রইল না।’‌ একই মন্তব্য করেন, অর্জুন সিংও।

 

বাড়িতে শুভ্রাংশু। ছবি: ভবতোষ চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top