বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর: শিলাবতী নদীর জলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হল দাসপুর ১ নম্বর ব্লকের রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। মঙ্গলবার রাত থেকেই রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শিলাবতী নদীর ওপর চণ্ডীখালের বঁাধ সংলগ্ন হাইত পাড়ার বঁাধে ফাটল দেখা দেয়। সেই বঁাধ দিয়েই জল ঢুকতে শুরু করে। পরে প্রায় ৩০ ফুট নদী বঁাধ ভেঙে শিলাবতীর জল এলাকায় ঢুকতে শুরু করে।
 এর জেরে প্লাবিত হয় রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সামাট, হোসেনপুর, রামগড় ও রাজনগরের বেশ কিছু অংশ এবং নিজ নাড়াজোল গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু এলাকা। বুধবার সকাল থেকে প্রশাসনের তরফে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বঁাধ মেরামতের কাজ করা হয়। সেচ দপ্তরের আধিকারিক মিঠুন কর জানান, প্রথমে বঁাধে ফাটল দেখা দেয়, অনেক চেষ্টা করেও বঁাধ রক্ষা করা যায়নি। এখন চেষ্টা করা হচ্ছে বঁাধের ভাঙা মুখ যাতে আর না বাড়ে। অন্যদিকে, বন্যার জল ঢুকে পড়ে রাজনগর এলাকায় ধান ও সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয় কৃষকরা। ওই এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিবছরই শিলাবতীর জল বাড়লে এই সব এলাকা প্লাবিত হয়। এদিকে, এদিন খেয়া পারাপারের সময় যাত্রী–সহ একটি নৌকো দাসপুর থানার রাজনগরের রামদেবপুরের কাছে শিলাবতী নদীতে উল্টে যায়। জয়কৃষ্ণপুর সানা ঘাটে যাওয়ার সময় এদিন দুপুরে নৌকোডুবির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিষ্ণু সানা জানান, জয়কৃষ্ণপুরের দিকে খেয়া নিয়ে আসার সময় ওই দিকেই আর এক বাইক আরোহী এসে গেলে তঁাকে নিতে মাঝনদী থেকে ফের নৌকো ফিরে যায়। সেখানে নৌকোতে বাইক তোলার সময় বেসামাল হয়ে পড়ে। নৌকোয় তখন মোট ৩টি বাইক, ২টি সাইকেল এবং ১৭ জন যাত্রী ছিলেন। নৌকোটি জলের মধ্যেই উল্টে  গেলে বাইক, সাইকেল–সহ সকলে জলে তলিয়ে যান। কিন্তু স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়, সকলে সুস্থ আছেন। পরে বাইক, সাইকেল ও নৌকাটিকেও উদ্ধার করা হয়। 

জনপ্রিয়

Back To Top