মিল্টন সেন, হুগলি: সেই কাঁচা রাস্তা আর নেই। হয়েছে ঝাঁ–চকচকে পিচ রাস্তা। অটো, টোটো থেকে বড় গাড়ি— সবই অনায়াসে পৌঁছতে পারে। পর্যাপ্ত জল, নিকাশি থেকে আলো— সব রয়েছে। তবু কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভিটে নিয়ে কিছুটা হলেও অভিমানী দেবানন্দপুরের বাসিন্দারা।
পাঠশালা থেকে স্কুল। কথাশিল্পীর ছেলেবেলা কেটেছিল দেবানন্দপুরেই। তাঁর সাহিত্যে একাধিকবার উঠে এসেছে দেবানন্দপুর গ্রাম, সরস্বতী নদীর কথা। ১৯৫৯ সালে এই গ্রামে শরৎ সংগ্রহশালা, শরৎচন্দ্র স্মৃতি মন্দির গড়ে তোলা হয়। একাধিক প্রাচীন দুষ্প্রাপ্য ছবি, পাণ্ডুলিপি, শরৎচন্দ্রকে লেখা রবীন্দ্রনাথের চিঠি ইত্যাদিতে সমৃদ্ধ সেই সংগ্রহশালা। কথাশিল্পীর ব্যবহার করা ছড়ি, চেয়ার–সহ একাধিক দুষ্প্রাপ্য সামগ্রী রাখা রয়েছে সেখানে।
স্থানীয় পীযূষ ধর জানান, প্রতি বছরই স্মৃতি মন্দির দেখতে দেশ–বিদেশ থেকে শরৎ–‌অনুরাগীরা আসেন দেবানন্দপুরে। সেই সংখ্যা বাড়ে ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে। কিন্তু এ বছর তার ঠিক বিপরীত ছবি। হাতেগোনা দু–একজন শরৎ–অনুরাগী ছাড়া সাধারণ পর্যটকের দেখা মিলছে না। স্থানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদারের উদ্যোগে গ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু কিছু না–পাওয়া রয়ে গেছে। যেমন, শরৎ স্মৃতি মন্দিরের পাশে থাকা শরৎ পাঠাগারে কোনও স্থায়ী গ্রন্থাগারিক নেই। খন্যান লাইব্রেরি থেকে একজন সপ্তাহে একদিন আসেন। তাঁর কাছেই চাবি থাকে স্মৃতি মন্দিরের। স্বাভাবিক কারণেই রবিবার ও সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে স্মৃতি মন্দির, সংগ্রহশালা।
স্থানীয় বাসিন্দা মধুসূদন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, শরৎচন্দ্রের জন্মভিটে রঙ করে ঝাঁ–চকচকে করে তোলা হয়েছে। অথচ সেখানে কোনও বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। কোনও কেয়ারটেকারও নেই। তাই সারা বছর জন্মভিটে তালাবন্দি থাকে। পর্যটকরা ফিরে যান। সংগ্রহশালায় নেই নিরাপত্তারক্ষী। যে কোনও দিন চুরি, ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বর্তমানে আর যাতায়াত সমস্যা নেই। তাই পর্যটকরা আরও বেশি করে দেবানন্দপুরে আসুক, শরৎচন্দ্রকে নিয়ে চর্চা বাড়ুক, চাইছেন সকলেই।

শরৎচন্দ্র স্মৃতি মন্দির। ছবি:‌ পার্থ রাহা‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top