যজ্ঞেশ্বর জানা, দিঘা, ১৫ জুলাই- সমুদ্রে মাছ শিকারের এখন ভরা মরশুম। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জারি রয়েছে সতর্কতা সঙ্কেত। আর এই কারণে গত ১৫ দিন ধরে ডাঙায় বসে মৎস্যজীবীরা। এতে আকাল চলছে সামুদ্রিক মাছের। মাছ শিকারের উপযুক্ত সময়েও অনেকটা হতাশ লঞ্চ–ট্রলারের মালিকরা। আর জেলে পরিবারগুলোতে চলছে দুর্দিন। ডিজেল–সহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিতে কার্যত বিপাকে পড়েছিলেন লঞ্চ–ট্রলারের মালিকরা। 
তবুও ১৫ জুন থেকে প্রতিবারে মতো সমুদ্রে ট্রলার ভাসিয়েছিলেন মৎস্যজীবীরা। মৎস্যজীবীরা ৫ থেকে ৭ দিনের ট্রিপে গিয়ে খুবই কম পরিমাণ মাছ শিকার করেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু বাড়তি খরচের পরও সমুদ্র থেকে শূন্য হাতে ফেরার কারণে ব্যাপক লোকসানের মুখে লঞ্চ ও ট্রলারের মালিকরা। দিঘা, পেটুয়া, শঙ্করপুর, শৌলা–সহ কাঁথি উপকূলে সরকার স্বীকৃত লঞ্চ–ট্রলারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। উপকূল এলাকার লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা নির্ভর করে সমুদ্রে মাছ শিকারের ওপর। এই মরশুমে মাছ ধরে তঁারা সম্বৎসরের খোরাক জোগাড় করেন। 
সিংহভাগ লঞ্চ–ট্রলার গত ১৫ জুন বেরিয়েছিল গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকারে। মৎস্যজীবীরা দলে দলে মাছ শিকারের জন্য সমুদ্রে ছুটে গিয়েও এক একটি ট্রিপে ৭–৮ দিন পর ফিরেছিলেন মোহনায়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এখন তঁাদের মাছ শিকারে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফলে গত দুই সপ্তাহ ধরে তঁারা মাছ শিকারে যেতে না পারায় চরম সঙ্কটে পড়েছেন। এর পরও যদি সমুদ্রে যেতে না পারেন তাহলে সারা বৎসর তঁাদের সঙ্কটের মধ্যে দিয়েই চলতে হবে।
দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, ‘‌এ সময়ে সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে দুই সপ্তাহ ধরে মাছ শিকার বন্ধ। এতে সাধারণ মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’‌ সোমবার দিঘা মোহনার পাইকারি মাছের বাজারে গিয়ে সামুদ্রিক মাছের আকালের চিত্রই দেখা গেছে। এই সময় সামুদ্রিক মাছের চাহিদা ব্যাপক। কিন্তু এবার মাছের আহরণ খুবই কম। এ কারণে আড়ৎদার, পাইকার–সহ বিভিন্ন হাত ঘুরে সামুদ্রিক মাছের মূল্যও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আর আকাশছোঁয়া মূল্যের কারণে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সামুদ্রিক মাছ ক্রয়ক্ষমতা নাগালের বাইরে বলাই চলে। মাছ পরিবহণ শ্রমিক দেবু দাস, কমল বেরারা বলেন, ‘‌ঘাটে এখন কোনও মাছ নেই। আগে মাছভর্তি ট্রলার ঘাটে এলে মজুরির সঙ্গে তঁারা খাবারের মাছ পেতেন। কিন্তু এখন সেটাও জুটছে না।’‌

শঙ্করপুর বন্দরে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে মাছ ধরার লঞ্চ–ট্রলার। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top