উদয় বসু: যার কেউ নেই, তার সাজদা আছে। এমন কথাই টিটাগড় এলাকায় মুখে মুখে ঘুরত। পাশাপাশি সাচ্চা কথা বলতেও ছাড়তেন না সাজদা। তাঁকেই নৃশংসভাবে গুলি করে খুন করা হল। স্বজন হারানোর শোকে অস্থির টিটাগড়ের মানুষের দাবি, পুলিস যেন অবিলম্বে সাজদার খুনিদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করে। একদিন কেটে গেলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে পুলিসের সন্দেহের তীর সাজদার স্বামী মহম্মদ শামিমের দিকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস সাজদা খাতুনের (৪০) বাড়ি টিটাগড় উড়ানপাড়া এলাকায়। স্বামী–স্ত্রী দু’জনেই কাপড়ে জরি লাগানোর কাজ করেন। তাঁদের দুই মেয়ে। এলাকায় সমাজসেবী বলে পরিচিত ছিলেন সাজদা। কেউ কোনও অসুবিধের মধ্যে পড়লে তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন। সাধ্যমতো চেষ্টা করতেন তাঁদের সমস্যা সমাধান করতে। এমন কথা স্বীকার করলেন টিটাগড় পুরসভার পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরিও। শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ শারীরিক অসুস্থতার কারণে উড়ানপাড়াতেই এক ডাক্তারের চেম্বারে ওষুধ আনতে যান সাজদা খাতুন। ওই চেম্বারের মধ্যেই দুই দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে। সাজদাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। একটি গুলি তাঁর নাকে লাগে। সাজদা ছুটে রাস্তায় বেরোলে দুষ্কৃতীরা তার ওপর পরপর দুটি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। এই নির্মম আক্রমণে হকচকিয়ে যান এলাকার মানুষ। দুষ্কৃতীরা চলে গেলে তাঁরাই সাজদাকে তুলে নিয়ে যান হাসপাতালে। ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সমাজসেবী ছাড়াও প্রতিবাদীর ভূমিকায় ছিলেন সাজদা। এই কারণেই খুন কি না, তদন্তে পুলিস।

জনপ্রিয়

Back To Top